কালবেলা · আন্তর্জাতিক
ফ্রান্সের পারমাণবিক মহড়ায় প্রথমবার ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান
২৪/১০/২০২৬

ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদার এবং রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় পারমাণবিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। এর অংশ হিসেবে ভূমধ্যসাগরের আকাশে প্রথমবারের মতো ফ্রান্সের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ফ্রান্সের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার রাতে ‘রামি’ নামের একটি মহড়ায় অংশ নেয় ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের টাইফুন যুদ্ধবিমান। খবর রয়টার্সের।
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাঁ-দিজিয়ে বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা রাফাল যুদ্ধবিমানগুলোকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যায় ব্রিটিশ টাইফুন। মহড়ায় পারমাণবিক হামলার একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি অনুশীলন করা হয়।
ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রাঁ বলেন, নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার থাকা দুই দেশের মধ্যে সমন্বয়কে বাধাগ্রস্ত করে না। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্রান্সের পারমাণবিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, ক্রমবর্ধমান বিপজ্জনক বিশ্বে ইউরোপের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে শান্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখা প্রতিরোধব্যবস্থা বজায় রাখতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স একসঙ্গে কাজ করছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সম্পর্কে অনিশ্চয়তার মধ্যে দুই দেশ তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার নিয়ে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়।
গত মার্চে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার সম্প্রসারণের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ইউরোপের মিত্রদেশগুলোকে যৌথ মহড়ায় অংশ নেওয়া এবং প্রয়োজনে তাদের ভূখণ্ডে স্বল্প সময়ের জন্য ফ্রান্সের পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র মোতায়েনের উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেন।
ফ্রান্সের কাছে সাবমেরিন ও বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য প্রায় ২৯০টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এ অস্ত্রভান্ডার রক্ষণাবেক্ষণে দেশটি বছরে প্রায় ৫৬০ কোটি ইউরো ব্যয় করে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে প্রায় ২২৫টি। তুলনায় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেকের পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি।
সূত্র: রয়টার্স
মূল প্রতিবেদনে যান ↗