ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমনির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা নতুন কিছু নয়। তবে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে তাঁর নামে তৈরি করা ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পরীমনি বলেছেন, নারীদের সম্মানহানি করার এমন অপচেষ্টা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) একটি বিপণিপ্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এই অভিনেত্রী। এ সময় নিজের জীবনের নানা বিতর্ক, সাম্প্রতিক ঘটনা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের হয়রানি করার বিষয়ে খোলামেলা বক্তব্য দেন তিনি।
জীবনে বারবার বিভিন্ন ঝামেলা ও বিতর্কের মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, তাঁর কপালেই যেন এসব লেখা রয়েছে। সারা জীবন নানা ঝামেলার মধ্য দিয়েই তাঁকে এগিয়ে যেতে হবে বলে মনে করেন তিনি। বিষয়টি মেনে নিয়েছেন উল্লেখ করে অভিনেত্রী জানান, এসব পরিস্থিতিকে তিনি নিজের মতো করে উপভোগও করেন।
তবে সাম্প্রতিক ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে সাধারণ কোনো বিতর্ক হিসেবে দেখছেন না পরীমনি। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার করে কাউকে বিব্রত করা কিংবা সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ভয়াবহ মানসিক ও সামাজিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
পরীমনি জানান, ঘটনার শুরুতে প্রথম তিন থেকে চার দিন তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু পরে যখন বুঝতে পারেন, বিষয়টি আর এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তখন তিনি প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, তাঁর মতো পরিচিত একজন মানুষ হয়তো পরিস্থিতি সামলে নিতে পারবেন। কিন্তু কোনো সাধারণ নারী এমন ঘটনার শিকার হলে তাঁকে ভয়াবহ মানসিক চাপে পড়তে হতে পারে। এমনকি কেউ কেউ চরম হতাশায় ভুগে আত্মহানির পথও বেছে নিতে পারেন। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে সবার সচেতন হওয়া এবং প্রতিবাদ জানানো জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা পরীমনির একটি ভুয়া ও আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের নিয়ন্ত্রণ হারানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতাতেও ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান অভিনেত্রী। তাঁর এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়।
প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানানোর পর অনেকে তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন। এ বিষয়ে পরীমনি বলেন, মানুষ যখন তাঁর সাহসকে সম্মান জানায়, তখন তিনি আরও সাহস পান। এতে তাঁর মনে হয়, তিনি সঠিক পথেই এগোচ্ছেন।
পরীমনির বক্তব্যে স্পষ্ট, ব্যক্তিগতভাবে নানা বিতর্কের মুখোমুখি হলেও প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের হয়রানি করার বিষয়টি তিনি হালকাভাবে নিতে চান না। তাঁর মতে, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিকভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর অপব্যবহার ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।
