নিজস্ব প্রতিবেদক · ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৩৮ অপরাহ্ন
সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে কুকুরের বিচরণ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে কুকুর নিধনের বদলে টিকাদানের মাধ্যমে জলাতঙ্কের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এ লক্ষ্যে নগরের ৪২টি ওয়ার্ডে শুরু হয়েছে কুকুরের গণটিকাদান কর্মসূচি। ১৫ দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে টিকা দেওয়া কুকুরগুলোকে বিশেষ রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে।
আজ সোমবার সকালে নগরের মির্জাজাঙ্গালে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে জলাতঙ্ক রোগ নির্মূল কর্মসূচির আওতায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। সিসিকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নগরকে সুন্দর ও নিরাপদ করার উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কুকুরের টিকাদান। প্রাণী নিধন না করে কুকুরকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীকে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উপদ্রবের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে উচ্ছিষ্ট ও পরিত্যক্ত খাবার পড়ে থাকে, সেখানে কুকুরের বিচরণ বেশি। বর্জ্য অপসারণের আগে খাবারের সন্ধানে কুকুর এসব স্থানে জড়ো হয়। আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নগরবাসীর নিরাপত্তায় এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আগে কুকুরের উপদ্রব বেড়ে গেলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো কুকুর নিধনের উদ্যোগ নিত। বর্তমানে প্রাণী নিধনের সুযোগ নেই। তাই টিকাদানের মাধ্যমে কুকুর থেকে মানুষের জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানোই কার্যকর পথ। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রাণিসম্পদ বিভাগকে অর্থসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে সিসিক।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিষ্ঠান থেকে কুকুরের উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ সমন্বিতভাবে এ কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি বলেন, সিসিকের অর্থায়নে ১৫ দিন ধরে নগরের ৪২টি ওয়ার্ডে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি কুকুরকে টিকা দেওয়ার পর বিশেষ রং দিয়ে চিহ্নিত করা হবে। এতে টিকা দেওয়া ও না দেওয়া কুকুর সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, কোনো এলাকায় কুকুরের উপদ্রব বেশি হলে সিটি করপোরেশনকে জানাতে হবে। সিসিকের হটলাইন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং সিভিল সার্জনের কার্যালয়েও এ বিষয়ে তথ্য দেওয়া যাবে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
কুকুরের কামড়ের শিকার হলে বিষয়টি অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় জলাতঙ্কের টিকা গ্রহণ করতে হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোনায়েদ কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, ম্যাস ডগ ভ্যাকসিনেশন এক্সপার্ট ডা. হাবিবুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ভেটেরিনারি সার্ভিসের টিম কো-অর্ডিনেটর ডা. মো. কামরুল ইসলাম ও হাসান সাইয়েদুল মুরসালিন। এ ছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. আবু সালমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাহিদ আরজুমান বানু, ডা. আব্দুস শহিদ হোসেন, ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও ডা. শারমিন আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় এ কর্মসূচিতে কারিগরি সহায়তা ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
