সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নে সরকার আন্তরিক, প্রবাসে যাওয়ার আগে কারিগরি জ্ঞান অর্জনের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, আঞ্চলিক উন্নয়নে সরকার আন্তরিক। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জের চিকিৎসাসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে স্থানীয় জনগণ উপকৃত হবেন এবং এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
শুক্রবার সিলেট নগরীর শহীদ সোলেমান হলে সিলেটস্থ কোম্পানীগঞ্জ সমিতির নবগঠিত কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ কোম্পানীগঞ্জের উন্নয়নে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটন সুবিধা বাড়ানো গেলে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
এ সময় কোম্পানীগঞ্জে বর্তমান স্থলবন্দরের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও একটি স্থলবন্দর স্থাপনের আশ্বাস দেন তিনি। নতুন স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা করা গেলে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের ন্যূনতম কারিগরি জ্ঞান অর্জন করা উচিত। পাশাপাশি যে দেশে কাজ করতে যাবেন, সেই দেশের ভাষায় অন্তত প্রাথমিক দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। এতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগানো এবং কর্মক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করা সহজ হবে।
তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শুধু জনশক্তি পাঠানোই যথেষ্ট নয়; কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা জরুরি। কারিগরি প্রশিক্ষণ ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের কর্মীরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও ভালো সুযোগ পেতে পারেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. তোতিউর রহমান। এ সময় বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামসুল ইসলাম, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সমিতির সভাপতি রফিকুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামাল হোসেইনসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা কোম্পানীগঞ্জের সম্ভাবনাময় পর্যটন, প্রাকৃতিক সম্পদ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

