রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকায় সরকারি রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক গৃহবধূ ও এক সংবাদকর্মীসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় গৃহবধূর স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়া এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে চন্দ্রিমা থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. সুমন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চন্দ্রিমা থানাধীন ছোটবনগ্রাম পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির পাশে সরকারি রাস্তার ওপর প্রাচীর নির্মাণ করে দখলে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় ওই প্রাচীর অপসারণ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে রাস্তা দখল নিয়ে সুমনের সঙ্গে অভিযুক্তদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমনের স্ত্রী সোনিয়া খাতুন টুম্পাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর কান থেকে প্রায় তিন আনি ওজনের, আনুমানিক ১৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, টুম্পাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সুজন (৩০) নামের এক যুবককে ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর কপালে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া বাঁশের লাঠি দিয়ে সুজন এবং প্রতিবেশী আব্দুল কুদ্দুসকে (৬৬) মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সংবাদকর্মী সুমন অভিযোগ করে বলেন, সরকারি রাস্তা দখলের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাঁর পরিবার ও প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এজাহারে নাম থাকা আজিজুল। তাঁর দাবি, সুমনের লোকজন তাঁদের না জানিয়ে তাঁর ভাইয়ের জায়গার সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে উল্টো তিনি মারধরের শিকার হন।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
