প্রাথমিক শিক্ষকদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->জাতীয় বেতন স্কেলে ১১তম গ্রেড, বিভাগীয় পদোন্নতি ও হয়রানিমূলক বদলি-মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে দাবির সঙ্গে ৬ কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি। এ সময় লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নীতিনির্ধারণী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন শাহীন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছেন। গত বছরের ৮ থেকে ১০ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের কর্মসূচিতে শিক্ষকদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও লাঠিপেটা করা হয়। অসুস্থ অবস্থায় ফাতেমা নামের একজন শিক্ষিকা মৃত্যুবরণ করেন। হামলায় প্রায় দুই শতাধিক সহকারী শিক্ষক গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা নেন। এ সময় সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও দাবি মানা হয়নি।
আরও পড়ুন
তারা বলেন, ‘এই সংবাদ সম্মেলন আমাদের কর্মসূচির প্রাথমিক সূচনা।’ পরবর্তী কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ৮ নভেম্বর কালো ব্যাচ ধারণ করবেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এদিন প্রয়াত শিক্ষক ফাতেমার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবেন শিক্ষকরা। আগামী ১৭ ডিসেম্বর বিভাগীয় কমিশনারদের কাছে শিক্ষক প্রতিনিধিরা স্মারকলিপি পেশ করবেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরে রাজধানীতে মহাসমাবেশ আয়োজন করা হবে। এরপরও দাবি আদায় না হলে অবস্থান ও অনশন কর্মসূচিতে বসবেন শিক্ষকরা।
আরও পড়ুন
সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ নষ্ট করলে ৫ বছরের জেল
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ নষ্ট করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ-২০২৬’ জারি করেছে সরকার। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুতের বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) রাতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ এই অধ্যাদেশ জারি করে।
এতে বলা হয়েছে, দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং এ খাতের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল করতে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে রবিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আরও পড়ুন
পরে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদিত বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সৌরবিদ্যুৎ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খাতে দেশের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। এ কারণে সরকার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি কোম্পানি এবং বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনা, ভবনসংলগ্ন পতিত জমি ও জলাশয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে। সৌরচালিত সেচপাম্প, কোল্ড স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং স্টেশন, চা বাগান, ভাসমান ও কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো এ সুযোগের আওতায় থাকবে। তবে বড় আকারের ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এ অধ্যাদেশের আওতায় পড়বে না।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার (ওপেক্স) মডেল ও ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স) মডেল ধরনের দুটি পদ্ধতি রাখা হয়েছে। অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার (ওপেক্স) মডেলে বিনিয়োগকারী নিজ খরচে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনা করবেন। অন্যদিকে ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স) মডেলে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প স্থাপন করে এর মালিকানা রাখতে পারবে। সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশনাও রয়েছে।
অধ্যাদেশে নেট-মিটারিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় গ্রাহক নিজের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুতের পরিমাণ বিলের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এরপরও বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকলে সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করবে।
অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। চোরাই বলে জেনেও যন্ত্রাংশ কেনা, বিক্রি করা বা নিজের কাছে রাখলেও একই শাস্তি হবে।
সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ নষ্ট বা ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে অন্য কাউকে অবৈধ সংযোগ দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সংযোগ, পরিদর্শন বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বাধা দিলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। এসব অপরাধে সহায়তা, ষড়যন্ত্র বা প্ররোচনা দিয়ে অপরাধ সংঘটনে যুক্ত হলেও শাস্তি পেতে হবে।
সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ও কার্যক্রম তদারকিতে জাতীয় পলিসি কাউন্সিল গঠন করা হবে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে সহায়তা ও কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে।
অধ্যাদেশের অধীন অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা হবে। অপরাধগুলো মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলভুক্ত হলে মোবাইল কোর্টেও বিচার করা যাবে।
আরও পড়ুন
সারা দেশে মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক আবহাওয়ার আভাস
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বুধাবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আরও পড়ুন
এতে আরও বলা হয়, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এর কাছাকাছি সময়ে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
রিফাত/
আরও পড়ুন
‘স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক প্রত্যাহার প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত মনোভাবের প্রমাণ’
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: খবরের কাগজ
-->আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক প্রত্যাহার প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রনায়কোচিত মনোভাবের প্রমাণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘কেউ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হলে কিংবা দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ওই নির্বাচনে দল-সমর্থিত প্রার্থীর হয়ে কাজ করার জন্য দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানান তিনি।’
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নিজ নির্বাচনি এলাকা বরিশাল-১-এর বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার শতাধিক দুর্গামণ্ডপ পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন
দুই উপজেলার পূজা কমিটির নেতারা ছাড়াও বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, সদস্যসচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শিকদার হাফিজুল ইসলাম, সদস্যসচিব মোল্লা বসির আহমেদ পান্নাসহ দুই উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তার সঙ্গে ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, কীভাবে কাজ করতে হবে। এরপরও দলের মধ্যে যারা মুনাফেকি করবেন, দল তাদের ক্ষমা করবে না।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি ইউনিয়নের তথ্য দলের কাছে রয়েছে। মনে রাখবেন, আগামী নির্বাচনে দল জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরই কেবল সমর্থন দেবে। কারও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে দল ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তিনি যত বড় নেতাই হোন না কেন, তাকে দলবিরোধী হিসেবে শাস্তি দেওয়া হবে।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘দল সব নেতা-কর্মীর নির্বাচনি তৎপরতা নজরে রাখবে।’
রিফাত/
আরও পড়ুন
আজ বিজয়া দশমী, উৎসব শেষে বিষাদের সুর
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
রাজধানীর খামারবাড়ি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের গতকাল ভক্তদের ধূপ আরতি ও ধুনুচি।ছবি: খবরের কাগজ
-->ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনায় আজ বুধবার উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী। পাঁচ দিনের দুর্গোৎসবের শেষ দিনে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হবে। তাই আনন্দের আবহের মধ্যেও ভক্তদের মনে বাজছে বিদায়ের সুর। ছায়া। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী উপলক্ষে আজ দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে বিশেষ পূজা, প্রার্থনা ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পূজা শেষে দেবী দুর্গা কৈলাসে ফিরে যান। পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটেছে ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং কৈলাসে ফিরে যাবেন নৌকায়। রীতি অনুযায়ী, দশ মীর বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীর বিদায়সংক্রান্ত ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হবে। এরপর বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা হবে। অনেক পূজামণ্ডপে বিবাহিত নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন এবং পরস্পরের মধ্যে সিঁদুর বিনিময়ের মাধ্যমে সিঁদুর খেলায় অংশ নেবেন। এ সময় তারা পরিবার ও স্বজনদের মঙ্গল কামনা করবেন। পাশাপাশি বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রণাম, সমবয়সীদের সঙ্গে কোলাকুলি এবং মিষ্টিমুখের মাধ্যমে বিনিময় করা হবে ‘শুভ বিজয়া’র শুভেচ্ছা।
বিজয়া দশমীর এসব আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ ও কল্যাণের প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাদের কাছে বিজয়া দশমী একদিকে উৎসবের সমাপ্তি, অন্যদিকে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও নতুন আশার বার্তা।
আরও পড়ুন
দুর্গাপূজার শেষ দিনে ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, রমনা কালীমন্দির ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপে বিশেষ পূজা ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যমতে, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিজয়ার বিশেষ প্রার্থনা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে সিঁদুর খেলার আয়োজন রয়েছে। বিকেলে পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর ওয়াইজঘাটের বীণাস্মৃতি স্নানঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের মূল আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ উপলক্ষে রাজধানীতে বিজয়ার শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। শোভাযাত্রাটি পলাশী মোড়ে সমবেত হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বুড়িগঙ্গার তীরে পৌঁছাবে।
চট্টগ্রামেও প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নগরের ঐতিহ্যবাহী জেএমসেন হলসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া পতেঙ্গা সৈকতেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে দেশজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ, মন্দির, শোভাযাত্রার পথ এবং প্রতিমা বিসর্জনের স্থানগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এর আগে সোমবার তিনি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন করেন।
