The Sangbad · সাধারণ
নাটোর থেকে উদ্ধার জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ
১৪/১০/২০২৬

বাংলাদেশে ঘুরতে এসে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা হারিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। তবে পুলিশের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে অবশেষে উদ্ধার হয়েছে তার মূল্যবান মালামাল।মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে এক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপটি ভুক্তভোগী জার্মান পর্যটকের হাতে তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।এ সময় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। হারিয়ে যাওয়া মালামাল অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের তাৎক্ষণিক সেবা, দায়িত্ববোধ ও আন্তরিক সহায়তার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই বিদেশি পর্যটক। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ভ্রমণকালে দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও সাধারণ মানুষের আতিথেয়তা নিয়ে নিজের অত্যন্ত ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের চমৎকার অভিজ্ঞতা নিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর দেশে আসেন ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। ভ্রমণ শেষে গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে গমন করার জন্য। স্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করার সময় তিনি নিজের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা সেখানে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে যান।কিন্তু বুথ থেকে ফিরে এসে দেখেন তার ল্যাপটপ ব্যাগটি যথাস্থানে নেই। হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপে তার বিগত ছয় মাসের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও বহু মূল্যবান ডকুমেন্ট সংরক্ষিত ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি নাটোর সদর থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান।লিখিত আবেদন পাওয়ার পরপরই নাটোর সদর থানা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের বেশ কয়েকটি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে নামে। প্রযুক্তি ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে গত ১১ অক্টোবর রাতে নাটোর সদর থানাধীন কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।বিদেশি পর্যটকের অভিযোগের দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি, হারানো মালামাল উদ্ধার এবং পুলিশের পেশাদারত্ব উজ্জ্বল করায় সংশ্লিষ্ট সদস্যদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান ও সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে বিশেষ আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।এ সময় আইজিপি প্রশংসনীয় কাজের জন্য কর্মকর্তাদের দলগত সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সব ইউনিটকে দেশি-বিদেশি সব নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান, সর্বোচ্চ পেশাদার পুলিশি সেবা প্রদান, পর্যটনবান্ধব চমৎকার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗