রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের সাত দিনের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াত আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও দলের ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। এ সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারের সামনে ঢাকা-১৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে তারা এই হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম উদ্দিন বলেন, রাড্ডা হাসপাতাল ভাংচুরের এত দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন না কেন? গণমাধ্যমে এসেছে, যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের পেছনেও মদদদাতা রয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের নাম পরিচয় জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। সরকার তা করতে ব্যর্থ হলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে।
হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া সব ওষুধও ফিরিয়ে দিতে হবে। হাসপাতালটিকে একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এসময় সঠিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, মিরপুরে সুলভ মূল্যে শত শত মা ও শিশু এখান থেকে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। অথচ এই হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রশাসন যদি সাত দিনের মধ্যে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়, তাহলে এর চেয়েও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, আমাদের পরিষ্কার কথা, কোনো তালবাহানা চলবে না। গডফাদার পাবেল এবং লেলিন, শুভ্র, রাসেল ও সজীব সহ যারা জড়িত তাদেরকে সাত দিনের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, জামায়াত নেতা ডা.মঈন উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম মৃধা ও জি এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
