ফিটনেস দুনিয়ায় নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ভাইব্রেশন প্লেট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ যন্ত্র ব্যবহার করে পেশি শক্তিশালী করা ও শরীরের ভারসাম্য বাড়ানোর নানা ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
কিন্তু সত্যিই কি এই যন্ত্র শরীরচর্চায় কার্যকর? ফিজিক্যাল থেরাপি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কিছু সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও গবেষণায় এখনো মিশ্র ফল পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জেএজি ফিজিক্যাল থেরাপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ফিজিক্যাল থেরাপি বিশেষজ্ঞ জন গ্যালুচি জুনিয়রের মতে, ভাইব্রেশন প্লেট এমন একটি যন্ত্র, যার ওপর দাঁড়ালে এটি কাঁপতে থাকে। এই কম্পনের কারণে পেশিগুলো বারবার সংকুচিত ও শিথিল হয়। ফলে শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে পেশিগুলোকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হয়।
এটিআই ফিজিক্যাল থেরাপির বিশেষজ্ঞ থমাস আর ডেনিঙ্গার বলেন, ভাইব্রেশন প্লেট ব্যবহারে পেশি সক্রিয় হতে পারে এবং স্কোয়াট বা ব্রিজের মতো সাধারণ ব্যায়ামের কার্যকারিতা বাড়তে পারে।
কম্পনশীল পৃষ্ঠের ওপর স্থির থাকতে শরীরকে ক্রমাগত ভারসাম্য ঠিক করতে হয়। এতে সময়ের সঙ্গে ভারসাম্য ও শরীরের অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি সাময়িকভাবে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় শরীরের জড়তা কম অনুভূত হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভাইব্রেশন প্লেট প্রচলিত শরীরচর্চার বিকল্প নয়। এটিকে মূল ব্যায়ামের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করাই ভালো।
ভাইব্রেশন প্লেট কেনার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখা জরুরি। যন্ত্রের ধরন, আকার, ব্যবহারকারীর ওজন বহনের সক্ষমতা এবং কম্পনের গতি নিয়ন্ত্রণের সুবিধা দেখে নেওয়া উচিত।
সাধারণত তিন ধরনের প্লেট পাওয়া যায়- পাশ থেকে পাশে দুলতে থাকা, ওপর-নিচে কম্পন তৈরি করা এবং দুই ধরনের নড়াচড়া একসঙ্গে করতে সক্ষম প্লেট।
ছোট জায়গায় ব্যবহারের জন্য কমপ্যাক্ট মডেল সুবিধাজনক। আবার ভারসাম্য ধরে রাখতে সমস্যা হলে হাতলযুক্ত মডেল বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে ভাইব্রেশন প্লেট সবার জন্য উপযুক্ত কি না, তা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে। ব্যবহারের আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে চলা এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা ফিজিক্যাল থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
