ছবি: খবরের কাগজ
-->বাঁশ, চালন, শোলা আর রঙিন কাপড়ের শৈল্পিক ব্যবহারে তৈরি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এক শিল্পজগৎ। মণ্ডপের ছাদজুড়ে সারি সারি চালনের বুনন, লাল কাপড়ের কারুকাজ, রঙিন কাপড়ের ভাঁজ আর ঝুলন্ত আলোকসজ্জা। লাল, হলুদ, কালো ও সাদার বৈপরীত্যে ফুটে উঠেছে নান্দনিক সৌন্দর্য। চারপাশে অসুরের মস্তক আর তাদের অত্যাচারের চিত্র। প্রতিটি ছবির সঙ্গে রয়েছে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। সব মিলিয়ে পৌরাণিক কাহিনি ও লোকজ শিল্পের মেলবন্ধনে ব্যতিক্রমী সাজে সেজেছে রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর রাধাগোবিন্দ জিউর মন্দিরের দুর্গাপূজা মণ্ডপ। নাম দেওয়া হয়েছে ‘অসুরা মণ্ডপ’।
প্রায় ৬৫ ফুট লম্বা ও ১৮ ফুট চওড়া মণ্ডপটিতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে প্রচলিত উপকরণের অভিনব ব্যবহার। জাঁকজমকের চেয়ে এখানে গুরুত্ব পেয়েছে নান্দনিক বিন্যাস, কারুশিল্প আর সৃজনশীলতা। সহজলভ্য বাঁশ, চালন ও শোলার মতো উপকরণ দক্ষ হাতে রূপ নিয়েছে দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্মে। মণ্ডপের কেন্দ্রস্থলে দেবী দুর্গা ও তার পরিবারের প্রতিমা পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
মণ্ডপের চারপাশে অসুরদের অত্যাচারের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ছবির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ক্যাপশনে বর্ণনা করা হয়েছে নানা কাহিনি। ফলে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি পৌরাণিক আখ্যান সম্পর্কেও জানতে পারছেন। ধর্মীয় আবহের সঙ্গে শিল্প ও গল্প বলার এই অভিনব প্রয়াস মণ্ডপটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়।
আরও পড়ুন
মণ্ডপ ও প্রতিমার শৈল্পিক সাজসজ্জা করেছেন রাজবাড়ী শহরের লক্ষীকোল এলাকার বাসিন্দা অনুপ সরকার লাল্টু। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই নিজের সৃজনশীলতা ও দীর্ঘদিনের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তিনি সাজিয়েছেন পুরো মণ্ডপ। এ কাজ করতে তার সময় লেগেছে প্রায় তিন মাস। পুরো কাজটি তিনি একাই করেছেন।
অনুপ সরকার লাল্টু বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই শিল্পকর্মের প্রতি তার আগ্রহ। নিজে নিজেই নানা ধরনের জিনিস তৈরি করতেন। এবার অসুরদের অত্যাচার এবং দেবী দুর্গা কীভাবে তাদের দমন করেছিলেন, সেই কাহিনি মণ্ডপের সাজসজ্জায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। মণ্ডপটি সাজাতে আড়াইশর বেশি বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের ভালো লাগলেই তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সার্থক হবে বলে জানান তিনি।’
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কুমার সাহা বলেন, এবার তাদের মন্দিরে দুর্গাপূজা আয়োজনের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। এ উপলক্ষে ভিন্নধর্মী কিছু করার পরিকল্পনা থেকে ‘অসুরা মণ্ডপ’ সাজানো হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দর্শনার্থীদের ভালো লাগবে বলে আশা করছেন তারা।
ধর্মীয় উৎসবের আবহে শিল্পের নান্দনিক প্রকাশ আর পৌরাণিক কাহিনির উপস্থাপনা সব মিলিয়ে বিনোদপুরের ‘অসুরা মণ্ডপ’ দুর্গাপূজার প্রচলিত সাজসজ্জায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
সুমন বিশ্বাস/খাদিজা রুমি/
