দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে পুরান ঢাকার সদরঘাট-সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদী ও আশপাশের এলাকায় বহুস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নদীপথ থেকে সড়ক, বিসর্জন ঘাট থেকে প্রধান মোড়- সবখানেই দায়িত্ব পালন করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ, গোয়েন্দা সদস্য, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বিজিবি, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদেরও তৎপরতা দেখা গেছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে বুড়িগঙ্গার বিসর্জন ঘাটে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়।
একের পর এক প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা ঘাটে পৌঁছানোর সময় সড়কে নিরাপত্তা দিচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। অন্যদিকে, নদীতে প্রতিমা বহনকারী নৌকাগুলোর আশপাশে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছিল ফায়ার সার্ভিসের স্পিডবোট। ঘাটে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছিলেন।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার রাত সাড়ে ১১টায় জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থায় মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা, পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত নারী পুলিশ সদস্যও মোতায়েন রয়েছেন।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
প্রধান সড়ক ও মোড়ে পুলিশের নজরদারি
প্রতিমা বিসর্জন কেন্দ্র করে পুরান ঢাকার প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা দেখা গেছে। বিভিন্ন মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন। প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা যাওয়ার সময় পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা দিয়ে সেগুলোকে ঘাটে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। এতে একদিকে শোভাযাত্রার চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা ছিল।
বিজ্ঞাপন

ঘাটের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায়ও দায়িত্ব পালন করছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিমা নিয়ে আসা মানুষের ভিড় সামলানো, নৌকায় ওঠানামার সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিসর্জন শেষে ভক্তদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি করা হচ্ছিল।
নদীতে ফায়ার সার্ভিসের স্পিডবোট
বিসর্জন ঘাটের নিরাপত্তায় স্থলভাগের পাশাপাশি নদীপথেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিমা বিসর্জনের জন্য যেসব নৌকায় ভক্তরা নদীতে যাচ্ছিলেন, সেগুলোর চারপাশে ফায়ার সার্ভিসের স্পিডবোট নিয়ে সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। নদীতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং নৌযানগুলোর নিরাপত্তায় সহায়তা করাই ছিল এ তৎপরতার অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া বিসর্জন ঘাটগুলোতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার নিয়ন্ত্রণকক্ষও ঘাট এলাকায় স্থাপন করা হয়, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বিসর্জন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুড়িগঙ্গার ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম চলতে থাকে। ঢাকের বাদ্য আর ভক্তদের শোভাযাত্রার মধ্যে একের পর এক প্রতিমা নদীতে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছিল। উৎসবের এই আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে নদী ও সড়কে নিরাপত্তা তৎপরতা অব্যাহত ছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকেরাও ঘাটে ভক্তদের চলাচলে সহযোগিতা করছিলেন। বিসর্জন ঘিরে মানুষের ভিড়, নৌযানের চলাচল এবং সড়কে শোভাযাত্রার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় বুড়িগঙ্গা তীরের আশপাশের এলাকাগুলোয়।
এমডিএএ/এমআইএইচএস
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
