Published on
:
1 min read
ভারতের গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে, এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানালেন বিশ্বের ২৭টি দেশের ৪০০-র বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত পড়ুয়া, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও প্রাক্তনী। ‘স্পেয়ার ইন্ডিয়া ফ্রম অ্যানার্কি’ বা ‘ভারতকে নৈরাজ্য থেকে বাঁচান’ শীর্ষক একটি যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা রাজনৈতিক বিরোধ মেটাতে সংসদ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বদলে রাস্তায় আন্দোলনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন MIT, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড এবং লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্সের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তবে এই বিবৃতি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।
কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনের নাম না করলেও, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের আবহে এই বিবৃতি সামনে এসেছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, SIR ভোটার তালিকার নিয়মিত হালনাগাদের প্রক্রিয়া।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের বক্তব্য, স্বাধীনতার পরে সাত দশকে ভারতীয় গণতন্ত্র বারবার নিজের শক্তি প্রমাণ করেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি কাজ করেছে এবং ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরও গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য থেকেছে। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনে হারলে ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, আদালতের রায়কে ঘিরে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও মন্তব্য করা হচ্ছে। এমনকী সেনাবাহিনীকেও রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনা হচ্ছে।
বিবৃতিতে সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেডকরের বক্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে সাংবিধানিক পদ্ধতির উপর আস্থা রাখা জরুরি। মতবিরোধ মেটাতে আলোচনা, বিতর্ক, সংলাপ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের পথ অনুসরণের আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
