কয়েক বছর আগেও ফোল্ডেবল ফোনকে অনেকে শুধু "শখের জিনিস" বা প্রযুক্তির পরীক্ষা ভাবতেন। এখন সেই ধারণা বদলাচ্ছে। স্যামসাং, হুয়াওয়ে, অনর, শাওমি, মটোরোলাসহ বড় ব্র্যান্ডগুলো নিয়মিত নতুন ফোল্ডেবল আনছে। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের ফোনের বিক্রিও বাড়ছে।
এক ফোনে দুই সুবিধা
ফোল্ডেবল ফোনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো আকারের সুবিধা। বুক-স্টাইল ফোন, যেমন গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড সিরিজ, ভাঁজ খুললে ছোট ট্যাবের মতো বড় পর্দা পাওয়া যায়। বন্ধ করলে সাধারণ ফোনের মতোই পকেটে রাখা যায়। ফলে আলাদা ট্যাব বা ট্যাবলেট বহন করার দরকার কমে যায়। ফ্লিপ-স্টাইল ফোনের আবেদন আলাদা। ভাঁজ করলে এগুলো বেশ ছোট হয়ে যায়, তাই ছোট ব্যাগ বা প্যান্টের পকেটে সহজে ঢোকে। তরুণদের কাছে এই ডিজাইন তাই বেশ জনপ্রিয়।
মাল্টিটাস্কিংয়ের সুবিধা
আমাদের দেশে ফোনই এখন অফিস, বিনোদন ও যোগাযোগের প্রধান যন্ত্র। বড় পর্দায় একসঙ্গে দুটি অ্যাপ চালানো যায়। যেমন এক পাশে ইমেইল বা পিডিএফ, অন্য পাশে নোট নেওয়া। ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি কাজের গতি বাড়াতে পারে। ইউটিউব, ফেসবুক ভিডিও বা সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাও বড় পর্দায় ভালো লাগে।
ফোল্ডেবল ফোনের প্রযুক্তি
প্রথম দিকের ফোল্ডেবলে ভাঁজের দাগ, পাতলা পর্দা, ভারী ওজন আর টেকসই না হওয়ার অভিযোগ ছিল। সময়ের সঙ্গে এগুলো অনেকটা কমেছে। নতুন মডেলগুলো আগের চেয়ে পাতলা ও হালকা। কবজা বা হিঞ্জ আরও মজবুত হয়েছে, আর অনেক মডেলে পানির ছিটা থেকে সুরক্ষাও আছে। ব্যাটারি ও ক্যামেরার মানও এখন ফ্ল্যাগশিপ ফোনের কাছাকাছি।
ফোনের প্রতিযোগিতা
বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে দাম কমে, মান বাড়ে। এখন শুধু স্যামসাং নয়, একাধিক ব্র্যান্ড এই বাজারে আছে। এতে ক্রেতার পছন্দের সুযোগ বাড়ছে। বড় ব্র্যান্ডগুলোর বিনিয়োগ দেখেও বোঝা যায়, তারা ফোল্ডেবলকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ মনে করছে।
স্ট্যাটাস ও স্টাইল
সত্যি বলতে, ফোল্ডেবল ফোন একটি স্ট্যাটাস সিম্বলও। হাতে নিলে আলাদা চোখে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় রিভিউ ও আনবক্সিং ভিডিও এই আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে। তরুণ প্রজন্ম নতুন প্রযুক্তি ও ভিন্ন ধরনের ডিজাইন পছন্দ করে, আর ফোল্ডেবল সেই চাহিদা পূরণ করে।
বাংলাদেশের বাজার
বাংলাদেশে ফোল্ডেবল ফোন এখনো মূলত উচ্চবিত্ত ও শখের ক্রেতাদের জন্য। সাধারণত এগুলোর দাম অন্যান্য ফোনের তুলনামূলকভাবে বেশি হয়ে থাকে। সঠিক দাম নির্ভর করে মডেল ও আমদানি পদ্ধতির ওপর, তাই কেনার আগে MobileDokan থেকে দাম যাচাই করে ক্রয় করা ভালো।
সীমাবদ্ধতা
ফোল্ডেবল ফোন এখনো নিখুঁত নয়। দাম বেশি, সাধারণ ফোনের চেয়ে ভারী, আর ভেতরের পর্দা সহজে স্ক্র্যাচ পড়তে পারে। ভাঁজের দাগ পুরোপুরি যায়নি। কিছু অ্যাপ বড় পর্দার জন্য ঠিকমতো অপটিমাইজড নয়। এসব কারণে সবার জন্য এটি সঠিক পছন্দ নয়।
ভবিষ্যৎ কেমন?
বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে এবং উৎপাদন বাড়লে ফোল্ডেবলের দাম ধীরে ধীরে কমবে। তখন মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কাছেও এটি পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশেও ফোনের বাজার দ্রুত বদলাচ্ছে। কয়েক বছর আগে যেমন ৫জি বা অ্যামোলেড পর্দা বিলাসিতা মনে হতো, আজ সেগুলো সাধারণ ব্যাপার। ফোল্ডেবলের ক্ষেত্রেও একই ঘটতে পারে।
শেষ কথা
ফোল্ডেবল ফোন জনপ্রিয় হচ্ছে কারণ এটি বড় পর্দা ও সহজে বহনের সুবিধা একসঙ্গে দেয়, প্রযুক্তি আগের চেয়ে নির্ভরযোগ্য হয়েছে, আর ব্র্যান্ডগুলোর প্রতিযোগিতা বাজারকে এগিয়ে নিচ্ছে। তবে বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ হলো, শুধু ট্রেন্ড দেখে নয়, নিজের প্রয়োজন, বাজেট ও বিক্রয়োত্তর সেবা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। ভবিষ্যতে হয়তো সবার হাতেই ভাঁজ করা ফোন দেখা যাবে, কিন্তু আজ বুঝেশুনে কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।
