মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান— এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টিকে গুজব বলে দাবি করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর প্রেস কর্মকর্তাও এ সংক্রান্ত খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন বিটিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রচারিত হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘শত শত ফোন আসছে, গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিজের সংসদীয় আসন ঢাকা-৬-এর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনসংলগ্ন একটি বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন। এ সময় মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। অভিযানে তাঁর অস্ত্র প্রদর্শনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এদিকে, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের খবরকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়েছেন তাঁর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিংবা তিনি পদত্যাগ করছেন— এমন খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী তাঁর সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাঁর পদত্যাগেরও কোনো প্রশ্ন নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে একটি মহল এ ধরনের মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, নিজ সংসদীয় আসনে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির সময় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করেছিলেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি আগেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোকে পদত্যাগের খবর প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএ
