কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে দেশের সব উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব কমিটির সভাপতি করা হবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) এবং সদস্যসচিব থাকবেন সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান এ তথ্য জানান।
সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা, অপরাধে কিশোরদের জড়িয়ে পড়া এবং জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত এলো।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব গোষ্ঠীর সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পেছনে থাকা পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে দেশের উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিগুলোর কার্যপরিধি বাড়িয়ে কিশোর গ্যাং,
হত্যা, ছিনতাই, অপহরণ, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কমিটির সভাপতি করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় নিয়মিত সভা করার কথা বলা হয়।
এদিকে দেশে গত বছরের তুলনায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৫ ও ২০২৬ সালের অপরাধবিষয়ক তুলনামূলক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, দাঙ্গা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অপহরণের মতো অপরাধের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে দেশে ডাকাতির ঘটনা ছিল ৫৩৮টি। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮৭টিতে।
একইভাবে দস্যুতার ঘটনা ১ হাজার ৪৮৩টি থেকে কমে ১ হাজার ৩৭৪টিতে নেমেছে। এ সময়ে খুনের ঘটনা ২ হাজার ৯১৩টি থেকে কমে ২ হাজার ৬৫৯টিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খুনের ঘটনা কমেছে ২৫৪টি। দাঙ্গার ঘটনা ৬২টি থেকে কমে হয়েছে ১৭টি। নারী নির্যাতনের ঘটনা ৯ হাজার ২৬২টি থেকে কমে ৮ হাজার ৯৭৮টিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ৩ হাজার ৫৯১টি থেকে কমে হয়েছে ৩ হাজার ১৫১টি। এ ছাড়া অপহরণের ঘটনা ৮১২টি থেকে কমে ৭৬৯টিতে নেমেছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের পরিসংখ্যানেও অধিকাংশ অপরাধের সংখ্যা কমার চিত্র পাওয়া গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ে ডাকাতির ঘটনা ছিল ১৭১টি, যা চলতি বছরের একই সময়ে কমে ১২৩টিতে দাঁড়িয়েছে। দস্যুতার ঘটনা ৫১১টি থেকে কমে হয়েছে ৪৬৭টি। এ সময়ে খুনের ঘটনা ৯৮০টি থেকে কমে ৮৮১টিতে নেমেছে। চুরির ঘটনা ২ হাজার ৬৯৩টি থেকে কমে হয়েছে ২ হাজার ৫৭৬টি। দাঙ্গার ঘটনা ৯টি থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৫টিতে।
এ ছাড়া জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ১ হাজার ৪৩২টি থেকে কমে ১ হাজার ২৩৮টিতে নেমেছে। একই সময়ে অপহরণের ঘটনা ২৯৫টি থেকে কমে হয়েছে ২৪২টি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে অপরাধের পরিসংখ্যানে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
