প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ · ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪২ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের বাজারে ৫০০ ও ১ হাজার টাকার জাল নোট ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েক দিনে শহরের একাধিক ব্যাংকে এসব নোট শনাক্ত করেছেন ক্যাশ কর্মকর্তারা। নতুন নোটের মতো দেখতে এসব জাল টাকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
ব্যাংকারদের কয়েকজন জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের হাতে একাধিক জাল নোট ধরা পড়েছে। তবে এসব নোট কোথা থেকে আসছে বা কারা বাজারে ছড়াচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে পুলিশ বলছে, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
গতকাল সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের সোনালী ব্যাংকের শাখায় টাকা জমা দিতে গিয়ে জাল নোট শনাক্ত হওয়ার একটি ঘটনা ঘটে। ব্যাংকটির ক্যাশ কর্মকর্তারা জানান, ডিড রাইটারের সহযোগী আতিকুর রহমান দানিস গত কয়েক দিনে তিনবার একটি করে জাল নোট জমা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তাঁদের সন্দেহ হয়েছে।
সোমবারও তার জমা দিতে আসা টাকার মধ্যে জাল নোট পাওয়া যায়। পরে ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ক্যাশ কর্মকর্তারা তার কাছে জানতে চান, টাকাগুলো তিনি কোথা থেকে পেয়েছেন। জবাবে আতিকুর রহমান জানান, আমবাড়ি এলাকার একটি জমির ক্রেতা তাঁকে ওই টাকা দিয়েছেন।
এরপর ওই জমির ক্রেতাকে ব্যাংকে আসতে বলা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, আমবাড়ি বাজারে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা থেকে টাকা তুলে ডিড রাইটারকে দিয়েছেন। ৫০০ টাকার পাঁচ বান্ডিল নোট যেভাবে পেয়েছিলেন, সেভাবেই হস্তান্তর করেছেন। তবে নোটগুলো সেলাই করা বা ইনটেক ছিল না বলে তিনি জানান।
পরে সোনালী ব্যাংকের ক্যাশ কর্মকর্তারা আমবাড়ি বাজারের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন জানিয়ে তিনি জানান, তিনি ব্যাংক থেকে তোলা টাকাই ওই গ্রাহককে দিয়েছেন। গ্রাহক তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাঁকে ৫০০ টাকা দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সোমবার সকালে কাজী হুমায়ুন নামের আরেক গ্রাহকের টাকা গোনার সময় ৫০০ টাকার একটি জাল নোট পাওয়া যায়। একই দিনে ১ হাজার টাকার নতুন আরেকটি জাল নোটও শনাক্ত করেন তারা। তাদের ধারণা, এসব ঘটনা বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে সুনামগঞ্জের পাশাপাশি আশপাশের বাজারেও জাল নোটের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। শান্তিগঞ্জের ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, নতুন ৫০০ ও ১ হাজার টাকার আসল নোটের মতো দেখতে জাল নোট বাজারে রয়েছে। তাদের কাছেও এমন নোট ধরা পড়েছে।
রমজান আলী জানান, জাল নোটের কারবারিরা দরিদ্র মানুষকে ব্যবহার করে বাজারে এসব টাকা ছড়িয়ে দেন। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার তথ্য তিনি দেননি।
পূবালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার প্রধান ক্যাশ কর্মকর্তা বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, গত সপ্তাহে তাদের শাখায় ৫০০ টাকার একটি জাল নোট পাওয়া গেছে। পণ্য কেনাবেচার সময় ব্যবসায়ীদের টাকা গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সোনালী ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ও জয়েন্ট কাস্টডিয়ান মল্লিক শামস উদ্দিন জামি বলেন, গত কয়েক দিনে তাদের শাখায় ৫০০ ও ১ হাজার টাকার একাধিক জাল নোট শনাক্ত হয়েছে। জাল নোটের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
তবে জাল নোটগুলো একই উৎস থেকে এসেছে কি না, কিংবা এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সুনামগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম আজাদ বলেন, ব্যাংকে টাকা যাচাইয়ের যন্ত্র রয়েছে। ক্যাশ কর্মকর্তারা যথাযথভাবে নোট পরীক্ষা করলে জাল টাকা শনাক্ত করা সম্ভব। কোনো প্রতারক ব্যাংকে জাল নোট জমা দিয়ে পার পেয়ে গেলে, সেটি সংশ্লিষ্ট ক্যাশ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে গাফিলতির ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, জাল নোটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হবে এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
