ছবির ক্যাপশন: ...............
মোঃ চপল সরদার ঃ
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং প্রয়োজনীয় পার্কিং সুবিধার অভাবে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। মার্কেট, হাসপাতাল ও স্কুলগুলোর আশেপাশে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় যানজট, ভোগান্তি এবং বিশৃঙ্খলা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
উত্তরা, যা একসময় শান্ত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই দ্রুত বাণিজ্যিকীকরণের সাথে তাল মিলিয়ে বাড়েনি অবকাঠামোগত সুবিধা, বিশেষ করে পার্কিং ব্যবস্থা। এলাকার প্রধান সড়কগুলো এবং অলিগলিতে প্রতিনিয়ত পার্ক করা গাড়ির কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
মার্কেটগুলোতে পার্কিং সংকট:
উত্তরায় অবস্থিত বড় বড় শপিং মল এবং ছোট-বড় মার্কেটগুলোতে আগত ক্রেতাদের জন্য পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। মার্কেটের সামনে, ফুটপাতে এবং এমনকি মূল সড়কেও গাড়ি পার্ক করে রাখতে দেখা যায়, যা যানজটকে আরও তীব্র করে তোলে। অনেক সময় পার্কিংয়ের জায়গা না পেয়ে ক্রেতারা অন্য কোথাও চলে যেতে বাধ্য হন, যার ফলে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হন।
হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিত্র:
উত্তরা এলাকায় বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। জরুরি সেবার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানে আসা রোগীদের স্বজনদের গাড়ি পার্কিং নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অ্যাম্বুলেন্স বা ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক সময় জরুরি পরিষেবাও ব্যাহত হয়। হাসপাতালের সামনে অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের কারণে রোগী এবং দর্শনার্থীদের চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়।
স্কুলগুলোর আশেপাশে বিশৃঙ্খলা:
সকাল ও বিকেলে স্কুল ছুটির সময় উত্তরা এলাকার বিভিন্ন স্কুলের সামনে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। অভিভাবকদের গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা না থাকায় তারা সড়কের ওপরই গাড়ি থামিয়ে রাখেন, যার ফলে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ছোট ছোট বাচ্চারাও এই যানজটের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় থাকে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
নাগরিকদের ক্ষোভ:
উত্তরা এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই পার্কিং সমস্যার সমাধান দাবি করে আসছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের মতে, পরিকল্পিত উপায়ে বহুতল পার্কিং লট নির্মাণ এবং বিদ্যমান ভবনগুলোতে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা:
এই গুরুতর সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ অনুমোদন এবং পার্কিং নীতিমালা সঠিকভাবে অনুসরণ না করার কারণেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে উত্তরাবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং এলাকার সামগ্রিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এই বিষয়ে আপনার আর কোনো তথ্য প্রয়োজন হলে আমাকে জানাতে পারেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উত্তরা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পার্কিং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান যারা রাস্তায় রঙ পার্কিং করেন তাদেরকে আমরা মামলায় দিতেছি পাশাপাশি এখন ভিডিও মামলা ও চালু হয়েছে আমরা ভিডিও মামলা ও দিচ্ছি আশা করছি রংপার্কিং এর প্রবণতা টা কমবে, এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী বলেন যেসব জায়গায় নির্দিষ্ট পার্কিং আছে ঠিক সেই সব জায়গাতেই জনসাধারণের পার্কিং করতে হবে তাহলেও কিছুটা জনদুর্ভোগ কমবে।
উত্তরা রাজউক কর্তৃপক্ষ: রাজউক উত্তরা আবাসিক এলাকার পরিকল্পনা ও উন্নয়নে জড়িত। তাদের পক্ষ থেকে পার্কিং সুবিধার অপ্রতুলতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা জানান, বিভিন্ন উচ্ছেদ অভিযান চলমান রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও এই উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে।
উত্তরা জোনের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হেলাল তালুকদার জানানা বিভিন্ন মার্কেট বা বাণিজ্যিক এলাকার পার্কিং সমস্যার কারণে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়। পার্কিং ব্যবস্থাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় যেখানে সেখানে পার্কিং না করে নির্দিষ্ট একটি স্থানে পার্কিং করা উচিত বলে তিনি মনে করেন তিনি আরো বলেন ফুটপাত দখল করে নিয়েছে হকাররা আর এই হকারদের কারণেই আমাদের ব্যবসায়ী কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। এবং আমরা বিভিন্ন সেমিনারের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে তুলে ধরছি পার্কিং বিষয়ে ফুটপাত বিষয়ে।
উত্তরায় অপর্যাপ্ত পার্কিং জনদুর্ভোগ চরমে এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন সিনিয়র সাংবাদিক ইয়াসিন মিয়া " এয়ারপোর্ট থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত বহুতল ভবনগুলোর বেজমেন্ট ফ্লোর পার্কিংয়ের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে রাজউক কর্তৃপক্ষ কিন্তু দেখা যায় কিছু কিছু ভবনের পার্কিংয়ের জায়গাটা ভবন কর্তৃপক্ষ
দোকান বানিয়ে ভাড়া এবং বিক্রি করে দেয়, বিগতদিনে দেখা যায় রাজউক কর্তৃপক্ষ জায়গাটাতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে পরবর্তীতে কিছু দিন গেলে একই অবস্থা দেখা যায় এতে পূর্বের নাই জনদুর্ভোগ রয়ে যায় যা সামলাতে প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়।
