The Sangbad · general
টাকার ভাগাভাগি নিয়ে সংঘর্ষ, আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪
১৪/১০/২০২৬

বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে টাকা আদায়, উপার্জিত অর্থের ভাগাভাগি এবং শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের দুটি পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মেহেদী (৩৫) ও শহীদ (৪৫) নামের দুই শ্রমিক নেতা গুরুতর আহত হয়েছেন।মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১টি বিদেশি পিস্তল ও ১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শ্রমিক দলের দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে মঙ্গলবার রাতে কুখ্যাত সন্ত্রাসী আজিম ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষ মেহেদী এবং শহীদ নামে অপর এক নেতার ওপর হামলা চালায়। তাদের কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়।ঘটনার পরপরই এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলের মহড়া দিয়ে অস্ত্রধারী একদল যুবককে শহরের বিভিন্ন সড়কে চক্কর দিতে দেখা যায়। খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে এই সংঘাত ঘটেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চিহ্নিত ‘কানা আজিম’সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত বাকিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এদিকে ঘটনার পর রাত সাড়ে ১০টায় বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে বাগেরহাট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কাশেম সেলিম ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তার ভাই আজিম ভূঁইয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা অস্ত্র নিয়ে ইউনিয়নের কার্যালয়ে প্রবেশ করেছিল। অন্যদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে একই রাতে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি খান মোকলেসের নেতৃত্বাধীন অপর পক্ষ। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আজিম ভূঁইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয়।উল্লেখ্য, সন্ত্রাসী আজিম ভূঁইয়া এর আগেও ককটেলসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পুনরায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗