ফ্রান্সে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে বিক্ষোভ-আন্দোলন চলছে, তার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থায় গাফিলতির কোনও সম্পর্ক নেই, দাবি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, সকলের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়াতেই ফ্রান্সের কাল হয়েছে। দেশ জুড়ে অবাধ অনুপ্রবেশের ফল ভুগছে প্যারিস। আন্দোলনকারীরা সকলেই ফ্রান্সকে ঘৃণা করেন, মত ট্রাম্পের।
আমেরিকায় মিড-টার্ম নির্বাচনের জন্য প্রচার চালাচ্ছেন ট্রাম্প। শনিবার গিয়েছিলেন জর্জিয়ায়। সেখান থেকে তিনি বলেন, ‘‘ফ্রান্সে পুলিশ আছে, কিন্তু তারা তাদের কাজ করতে পারে না। তাই এখন ফ্রান্সে আগুন জ্বলছে। যারা ওদের ঘৃণা করে, তাদের জন্যেও ওরা সীমান্ত খুলে দেয়। এই সমস্ত লোকজন (বিক্ষুব্ধেরা) ফ্রান্সকে ঘৃণা করেন। ফ্রান্সের মানুষকে ঘৃণা করেন।’’
দ্বিতীয় বার আমেরিকার কুর্সিতে বসার পর অনুপ্রবেশ এবং অভিবাসন নীতিতে কঠোর হয়েছেন ট্রাম্প। তিন লক্ষেরও বেশি ভিসা বাতিল করেছেন। দাবি, বাইরে থেকে লোকজন এসে স্থায়ী ভাবে আমেরিকায় বাস করায় আমেরিকানদের রুটিরুজিতে টান পড়ছে। ফ্রান্সের সমস্যার নেপথ্যেও একই কারণ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ফ্রান্সের পরিস্থিতিকে উদাহরণ হিসেবে দেখিয়ে জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সেনেটর জন ওসোফের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন ট্রাম্প। বলেছেন, ‘‘এই ধরনের লোকজনের সঙ্গে কী করা উচিত? এদের কখনও দেশে ঢুকতেই দেওয়া উচিত নয়। আমরা সেটাই করে থাকি। কিন্তু এখানে ওসোফ চান, লক্ষ লক্ষ আমেরিকাবিরোধী তৃতীয় বিশ্বের অভিবাসীকে আশ্রয় দিতে। ওরা আমাদের এই সভ্যতাকে লুট করতেই চায় শুধু। আমরা সেটা হতে দেব না।’’
উল্লেখ্য, ফ্রান্সে অশান্তির সূত্রপাত স্কুল-কলেজের পরিকাঠামো, কর্মচারীর অভাব-সহ একাধিক সমস্যা থেকে। পথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রাথমিক ভাবে ছাত্রসমাজ পথে নামলেও ক্রমে তা বৃহত্তর আকার নিয়েছে। অভিযোগ, ফ্রান্সে জীবনযাপনের খরচ ঊর্ধ্বমুখী। দিন দিন জনকল্যাণমূলক পরিষেবাগুলির মান পড়ছে। উন্নত পরিষেবার দাবিতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বিভিন্ন জায়গায় হিংসাত্মক হয়ে উঠেছে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, দেদার লুটপাট, সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটছে প্যারিস, মার্সেই, লিয়ঁ প্রভৃতি শহরে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ কার্ফু জারি করছে। বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু তাতে অশান্তি থামেনি। এই অশান্তির সঙ্গেই এ বার অনুপ্রবেশকারী সমস্যাকে জুড়ে দিলেন ট্রাম্প।
