যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) এক সিপাহীর বিরুদ্ধে দুই যাত্রীর কাছ থেকে ১০ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় সিপাহী আমিনুল ইসলাম পলাশকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আরএনবির পশ্চিমাঞ্চল জোনের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সিপাহীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দুই যাত্রীর একজন রুবেল (২৫)। তার বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সরকারপাড়া গ্রামে।
অন্য যাত্রী অলিউল্লাহর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার চর চকপাড়া গ্রামে। গত বুধবার রাতে কুষ্টিয়া থেকে সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছান তারা।
রাত বেশি হওয়ায় স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন দুই যাত্রী। অভিযোগ অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মে বসে খাবার খাওয়ার সময় আরএনবির সিপাহী আমিনুল ইসলাম পলাশসহ আরও দুজন তাদের কাছে যান।
একপর্যায়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ১০ হাজার ৬০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
ঘটনার পর ওই রাতেই আরএনবির রাজশাহী স্টেশন চৌকির ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তারা। অভিযোগ দেওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত সিপাহী তাদের সঙ্গে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। তবে দুই যাত্রী অভিযোগ প্রত্যাহারে রাজি হননি। এরপর আমিনুল ইসলাম পলাশ স্টেশন ছেড়ে চলে যান।
বৃহস্পতিবার দিনভর তাকে স্টেশনে দেখা যায়নি এবং তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
আরএনবির পশ্চিমাঞ্চল জোনের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে যে তথ্য এসেছে তাতে অভিযুক্ত সিপাহী আরও দুজনের সহযোগিতায় দুই যাত্রীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সেই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পূজার ছুটির কারণে অফিস বন্ধ থাকায় রোববার (২৫ অক্টোবর) অভিযুক্ত সিপাহীকে তিন দিনের সময়সীমা দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআলো/আমিনা