জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর পরিকল্পনা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানী প্যারিসে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বিপুলসংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজি ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করেন। ছোট ছোট মিছিল নিয়ে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্থানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় অনেককে মুখে মাস্ক ও মাথায় হুডি পরা অবস্থায় দেখা যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভির বরাতে জানা গেছে, ফ্রান্সের লিঁও শহরের একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েক দিন ধরে ২০১৮ সালের আলোচিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।
২০১৮ সালে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন পুরো ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। সমাজে থাকা বৈষম্যের বিরুদ্ধে এ আন্দোলন হয়।
অপরদিকে নতুন আন্দোলনের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। যা শুরু করেন দেশটির শিক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষাখাতে বাজেট কমানোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে এবং স্কুলের পরিবেশ ঠিক করার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
আজকের বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছে ফ্রান্সের অন্যতম বড় শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটি। তারা সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি বেতন ও পেনসন, মানুষের দাবি অনুযায়ী জিনিসপত্রের দাম কমানো এবং সরকারি সেবা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে প্যারিস থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরে যে আন্দোলন শরু হয় তখন প্রায় দুই হাজার বিক্ষোভকারী আটক হয়েছিলেন।
সূত্র: এপি
রিপোর্ট : এটিএন নিউজ/সা.সি
