ইন্দোনেশিয়া থেকে ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের নিয়ে প্রথম ফ্লাইট আগামী বছরের ১১ এপ্রিল সৌদি আরবের মদিনার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ১০ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীদের হজের আবাসনকেন্দ্রে প্রবেশের কার্যক্রম শুরু হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে পবিত্র আরাফাতের ময়দানে অবস্থানে মধ্য দিয়ে পালিত হবে হজের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা।
ইন্দোনেশিয়ার হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের যাতায়াত, সৌদি আরবে অবস্থান, হজের আনুষ্ঠানিকতা এবং দেশে ফেরার পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের ২৬ নম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সূচি ঘোষণা করা হয়। এতে হিজরি ১৪৪৮ সালের হজ কার্যক্রমের তারিখ নির্ধারণে সৌদি আরবের উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব তেগুহ দ্বি নুগরোহো ২০ অক্টোবর জাকার্তায় এ সময়সূচির বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের পরিকল্পনা, যাত্রী পরিবহন ও সেবার সমন্বয়ের জন্য এ সূচি নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে হজের প্রতিটি ধাপ সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সহজ হবে।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রা শুরু হবে ১১ এপ্রিল এবং চলবে ১০ মে ২০২৭ পর্যন্ত। মোট ৩০ দিনের যাত্রা কার্যক্রম দুই ধাপে পরিচালিত হবে। প্রথম ধাপে ১১ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত হজযাত্রীদের ফ্লাইট যাবে মদিনায়। দ্বিতীয় ধাপে ২৬ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত ফ্লাইট যাবে জেদ্দায়। হজযাত্রীরা সৌদি আরবে গড়ে ৩৮ থেকে ৪০ দিন অবস্থান করবেন।
সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪ মে হজযাত্রীরা মক্কা থেকে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পরদিন ১৫ মে অনুষ্ঠিত হবে উকুফে আরাফা। ১৬ মে পবিত্র ঈদুল আজহা এবং ১৭ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত পালিত হবে আইয়ামে তাশরিক। হজের এসব গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে যাতায়াত ও অন্যান্য সেবার মধ্যে সমন্বয় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
হজ শেষে ইন্দোনেশিয়ার হজযাত্রীদের দেশে ফেরার কার্যক্রমও দুই ধাপে ৩০ দিন ধরে পরিচালিত হবে। প্রথম ধাপে ২১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত মক্কা থেকে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে হজযাত্রীরা ইন্দোনেশিয়ায় ফিরবেন। দ্বিতীয় ধাপে ৫ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এ ধাপের যাত্রীরাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরবেন।
মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব তেগুহ দ্বি নুগরোহো বলেন, শুধু সময়সূচি প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কাজের ধাপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। তার মতে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা এবং কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।
