কোচিতে ইহুদিদের উপাসনালয় বা সিনাগগের সামনে আগুনগ্রাফিক্স: রাতুল মণ্ডল
Published on
:
2 min read
কেরালার কোচিতে ইহুদিদের উপাসনালয় বা সিনাগগের সামনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আন্তর্জাতিক যোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ধৃত যুবকের মোবাইল ফোনের চ্যাট এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে তদন্তে নেমেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA), কেরালা পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (ATS) এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে ২ হাজার মার্কিন ডলারের লেনদেনও।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধৃত যুবকের নাম এবিন পল (৩২)। তাঁর বাড়ি কেরালার পুথেনক্রুজ এলাকায়। তদন্তকারীদের দাবি, সোমবার, ১২ অক্টোবর গভীর রাতে কোচির এর্নাকুলাম মার্কেট এলাকায় কাডাভুমভাগাম সিনাগগের সামনে থাকা হর্টিকালচার নার্সারিতে আগুন লাগানোর ঘটনায় যুক্ত এবিন। ওই নার্সারি সিনাগগের ট্রাস্টের সঙ্গে যুক্ত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন একটি নীল মারুতি সুজ়ুকি ইগনিস গাড়িতে করে সেখানে পৌঁছন অভিযুক্ত। নার্সারির সামনে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে মোবাইল ফোনে তা রেকর্ড করে এলাকা ছেড়ে চলে যান অভিযুক্ত। তদন্তকারীদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গাড়ির সূত্র ধরে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়।
টেলিগ্রাম চ্যাটে ‘বস’, ২ হাজার ডলারের লেনদেনে নজর
অভিযুক্তের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র পেয়েছেন তদন্তকারীরা। চ্যাটে ওই ব্যক্তিকে ‘বস’ বলে সম্বোধন করছিলেন অভিযুক্ত এবিন। নির্দিষ্ট জায়গায় আগুন লাগিয়ে ভিডিয়ো পাঠানোর বিনিময়ে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রায় ২,০০০ ডলার লেনদেনের তথ্যও উঠে আসছে। সেই লেনদেনে অর্থের উৎস ও গন্তব্য জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায়। তবে এই লেনদেনের সঙ্গে অগ্নিসংযোগের যোগ এখনও নিশ্চিত নয়।
অন্য শহরেও হামলার ছক?
অভিযুক্তের ফোনে ইহুদি উপাসনালয় এবং দেশের অন্য শহরে সম্ভাব্য হামলার উল্লেখ রয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। ফলে কোচির ঘটনাটি কোনও বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ফোনের চ্যাট ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের ফরেনসিক পরীক্ষা করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া মুভাট্টুপুঝায় একটি গাড়ির শোরুমে আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গেও এবিনের কোনও যোগ ছিল কি না তাও আতস কাচের নীচে। তাছাড়া, অভিযুক্তের ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মাদক ও সাইকোট্রপিক পদার্থ উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। এ নিয়ে পৃথক মামলাও হয়েছে।
