ওয়াশিংটন, ২১ অক্টোবর – যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর অভাবনীয় কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর (Department of State) নিশ্চিত করেছে যে, নজিরবিহীন এক অভিযানে এরই মধ্যে ৩ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আগের যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় এবার রেকর্ড গতিতে এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-কে পাঠানো এক বিশেষ ইমেইল বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করে সাফ জানিয়ে দিয়েছে—দেশের আইন লঙ্ঘন, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
যে প্রধান কারণগুলোতে বাতিল হলো লাখ লাখ ভিসা
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বাতিল হওয়া ভিসার বড় একটি অংশ বাতিল করা হয়েছে নানা ধরনের ফৌজদারি অপরাধ, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে।
ভিসা বাতিলের প্রধান কারণগুলোর পরিসংখ্যান:
- ২৫%: হিংসাত্মক হামলা ও সহিংস অপরাধের সাথে জড়িত থাকার দায়ে।
- ২২%: মদ্যপ অবস্থায় বা নেশাগ্রস্ত হয়ে গাড়ি চালানো (DUI)-র কারণে।
- ৭%: চুরি ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায়।
- ৭%: মাদকদ্রব্য গ্রহণ, বহন বা বেআইনিভাবে বিতরণের দায়ে।
এর বাইরে অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য গোপন করা, ভুয়া কাগজপত্র বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।
‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্ম পর্যটনে বড় আঘাত: ৪ হাজার ভিসা বাতিল
আমেরিকান নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নেওয়ার উদ্দেশ্যে গর্ভবতী নারীদের ভ্রমণ বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ (Birth Tourism) চক্র রুখতে আরও কঠোর হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কেবল সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের দায়ে ৪ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিদেশি মায়েরা যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর জন্য সরাসরি মার্কিন নাগরিকত্ব হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেন, যা সম্পূর্ণ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন রেকর্ড: ৩ লাখ ছাড়াল সংখ্যা
ভিসা বাতিলের এই প্রবণতা গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছিল:
- চলতি বছরের জানুয়ারি: বাতিল হওয়া ভিসার সংখ্যা ছিল ১ লাখের বেশি (যা তৎকালীন রেকর্ড ছিল)।
- আগস্ট মাস: ভিসা বাতিলের সংখ্যা পৌঁছে যায় ১ লাখ ৭৫ হাজারে।
- সর্বশেষ অক্টোবর: সব রেকর্ড ভেঙে বাতিলকৃত ভিসার সংখ্যা ৩ লাখ স্পর্শ করল।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানান, “যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি বিশেষ অধিকার, কোনো মৌলিক অধিকার নয়। যারা আইন ভেঙেছেন কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না।”
সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া নজরদারি ও মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ
ভিসা বাতিলের পাশাপাশি বিদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা নীতি মারাত্মক কঠোর করা হয়েছে। এখন থেকে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের গতিবিধি কঠোরভাবে পর্যালোচনা ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেকিং জোরদার করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এসব অতি-কঠোর পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকারকর্মী ও আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হতে পারে এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর অভিবাসীদের আলাদাভাবে টার্গেট করার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এনএন/ ২১ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::৩ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন first appeared on DesheBideshe.