রাজধানীর রমনায় অফিসার্স ক্লাবের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মোশাররফ হোসেনের (৭২) মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের ভেতরে বের হওয়ার পথ খুঁজতে গিয়ে তিনি নিচে পড়ে যান।
নিহতের ঘনিষ্ঠজন ও হাসপাতাল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তাঁর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। দুই মেয়ের একজন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তিনি দেশে ফিরলে দাফন করা হবে।
মোশাররফ হোসেন বিসিএস ১৯৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। তিনি অফিসার্স ক্লাবের সদস্য ছিলেন এবং রাজধানীর বনানীতে থাকতেন।
শুক্রবার মেয়েকে সাঁতার শেখাতে তিনি অফিসার্স ক্লাবের সুইমিংপুলে যান। মেয়েকে সেখানে রেখে একপর্যায়ে ক্লাবের অফিসের দিকে যেতে গিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির ভেতরে ঢুকে পড়েন। বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনের নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁকে শাহবাগের বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজের তথ্য তুলে ধরে অফিসার্স ক্লাবের এক কর্মকর্তা জানান, মোশাররফ হোসেন ভুল করে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামেন। সিঁড়ি ধরে ভবনের বেজমেন্টে চলে গেলেও সেখান থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি। এ সময় বের হওয়ার পথ খুঁজতে গিয়ে একপর্যায়ে নিচের গর্তের মতো একটি জায়গায় পড়ে যান বলে ফুটেজে দেখা গেছে।
ওই কর্মকর্তা আরো জানান, মোশাররফ হোসেনের মেয়ে বাবাকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি জানানোর পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। এতে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি ক্লাবের বাইরে যাননি। পরে খোঁজাখুঁজি করে বেজমেন্টে তাঁকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে।
নিহতের চোখে আগে অস্ত্রোপচার হয়েছিল বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন। তিনি আগে থেকেই কম দেখতেন। অফিসার্স ক্লাবের ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, মোশাররফ হোসেনের ভুলে যাওয়ার সমস্যাও ছিল। শুক্রবার সকালে ক্লাবে লোকজনের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। তাঁর ধারণা, ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঘটেছে।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াছিন মিয়া শুক্রবার রাতে জানান, নির্মাণাধীন ভবনটির নিচতলায় সিঁড়ির পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর মোশাররফ হোসেনকে বারডেম হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের এক আত্মীয় জানান, তাঁরা ঘটনার বিস্তারিত জানেন না। মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুর খবরই শুধু তাঁদের জানা আছে। তাঁর এক মেয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরলে দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/১৮/১০/২০২৬
