বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর সোনা মহাপাত্র আবারও তার সাহসিকতা এবং তীক্ষ্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে বিনোদন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন। সম্প্রতি ভারতের রাজনীতি এবং সামাজিক নানা ইস্যুতে নিজের স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করে সোনা প্রমাণ করেছেন যে, কেবল সুরের জাদুতে নয়, বরং সাহসের পরিসরেও তিনি সমানভাবে সরব। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর একটি পোস্টের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এই গায়িকা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রাজপথে বিরোধীদের নিয়ে সোচ্চার হন রাহুল গান্ধী। রাহুল তার এক্স হ্যান্ডেলে দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং কেন্দ্রীয় সরকার বদলের মাধ্যমেই দেশের গণতন্ত্রের প্রকৃত মেরামত সম্ভব। এই পোস্টটি নজর এড়ায়নি সোনা মহাপাত্রের। দীর্ঘ নয় বছর পর সম্প্রতি হিমাচল প্রদেশ ভ্রমণ করে ফিরে পাহাড়ি রাজ্যের বেহাল দশায় স্তম্ভিত হয়ে যান গায়িকা। এরপরই রাহুল গান্ধীকে ট্যাগ করে এক কড়া বার্তায় সোনা লেখেন, দেশে গণতন্ত্র মেরামত করার আগে হিমাচল প্রদেশ মেরামত করা দিয়ে শুরু করা উচিত।
হিমাচল প্রদেশে বর্তমানে সুখবিন্দর সিং সুখুর নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার রয়েছে, যেখানে নিয়মিতভাবেই নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচারণায় অংশ নেন রাহুল গান্ধী। পাহাড়ি রাজ্যে ফিরে চারপাশের আবর্জনার স্তূপ এবং দূষিত নদীর করুণ দশা দেখে ক্ষুব্ধ সোনা আরও যোগ করেন যে, কংগ্রেস শাসিত এই রাজ্যটিকে আগে সুশাসনের আদর্শ মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুধু ফাঁকা দাবি না জানিয়ে কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রকৃত সমর্থন অর্জনের তাগিদ দেন এই তারকা গায়িকা।
এর আগেও নানা স্পর্শকাতর সামাজিক ইস্যুতে সোনা মহাপাত্রের সাহসিকতা প্রশংসিত হয়েছে। ৮ই অক্টোবর ৭৫ বছর বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে গোয়ায় প্রয়াত হন প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকার। নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে আনীত মি-টু অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত ‘ইভিল ডেড’ বা অশুভ আত্মা হিসেবে আক্রমণ করলে সোনা তনুশ্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ট্রোলারদের তীব্র সমালোচনা করেন। সে সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, মৃত্যুর যেমন নিজস্ব মর্যাদা রয়েছে, তেমনি জীবিত মানুষের অধিকার ও সম্মানেরও মূল্য দিতে হবে। মৃত্যু কোনোদিন মানুষের অতীতের অস্বস্তিকর সত্যকে মুছে ফেলতে পারে না।
রাজনীতি থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের বিভিন্ন অসংগতির বিরুদ্ধে সোনা মহাপাত্রের এই একের পর এক চাঁচাছোলা ও নির্ভীক মন্তব্য বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ঝড় তুলেছে। অনুরাগীরা তাঁর এই আপসহীন মনোভাবের প্রশংসা করছেন, যা শোবিজ পাড়ায় তাকে এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।
