সেই ভাইরাল ইউএনও বিরুদ্ধে এবার অসদাচরণের অভিযোগ
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৪:০০:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার পর বিএনপি নেতা দাবী করা ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সেই ভাইরাল নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বিরুদ্ধে এবার সরকারী কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। ইউএনও পদের নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে দলীয় মনোভাব নিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করাটা, সরকারি চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন যা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক সরকারি কর্মকর্তার অভিযোগ, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার দাপ্তরিক বৈঠক এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নিজেকে বিএনপির স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। সম্প্রতি এক গনমাধ্যম কর্মীকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা দাবী করেছেন। যা এরই মধ্যে ভাইরাল
হয়েছে। একজন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার কর্মকর্তা হয়ে দলীয় পরিচয় প্রকাশ করায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও সেবা নিতে আসা প্রার্থীরা বলছেন, দলীয় পরিচয়ের কারণে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে সাধারণ মানুষ সেবা পেতে গিয়ে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে বা প্রতিকার চাইতে গেলে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেন।
উপজেলা কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুর্তজা আলম বলেন, ইউএনও মানুষকে মানুষ মনে করেন না। তার দপ্তরে ঢুকতে দরজায় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঢুকার অনুমতি পাওয়া গেলেও চেয়ারে বসাতো দুরের কথা, দাড়িয়ে রেখে জেরা করেন। টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না। টাকা পেলে আবার ভাল আচরণ করেন তিনি,
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানান তাদের সাথেও ইউএনও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য আচরণ করেন। তাঁর আচড়ণে শিক্ষক সমাজ ক্ষুব্ধ।
বাদল হোসেন নামে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী জানান, এই ইউএনও সব সময় নিজেকে বিএনপির ক্যাডার ভাবেন। কথায় কথায় মানুষকে জ্ঞান দেন। অথচ আমি যেতটা জেনেছি ছাত্র জীবনে তিনি ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন।
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা খয়রাত আলী জানান, জাহিদুর এমপি ছাড়া এই ইউএনও কারো সাথে ভাল ব্যবহার করেন না। আমার সাথেও একাধিকবার খারাপ আচড়ণ করেছেন। এমপিকে হাতে রেখে সার ডিলার নিয়োগ সহ টিআর কাবিখা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা লুটপাট করছেন।
উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইউএনও অফিসে যোগদানের পর থেকেই সহকর্মীদের সঙ্গে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন। কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করার হুমকি দেন তিনি।
একজন বিসিএস কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি অফিসে একটি পেশাদার ও সেবামুখী পরিবেশ থাকার কথা, কিন্তু এখানে এখন ইউএনও’র রাম রাজত্ব চলছে। অফিসারদের সারাক্ষণ এক ধরণের মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে হয়। অফিসার্স ক্লাবে কেউ যান না।
ঠাকুরগাঁও জজ কোর্টের সিনিয়র আইজীবী আবু সায়েম বলেন, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ /২৫ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না বা রাজনৈতিক পরিচয় দিতে পারেন না। কিন্তু পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ফলাও করে প্রচার করছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ প্রশাসন ও জনগণের মধ্যকার আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।
পীরগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজ, ভুক্তভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ইউএনও-র বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
