২০২৫ সালের ৯ মে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় দেওভোগের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন আইভি।
Published : 13 Oct 2026, 05:20 PM
Updated : 13 Oct 2026, 05:20 PM
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ের একটি হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় নিম্ন আদালত থেকে পুনরায় জামিন পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।
জামিন পেয়ে আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য না দিলেও গাড়িতে ওঠার আগ মুহূর্তে এই আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেন, “জয় বাংলাকে দমিয়ে রাখা যাবে না।”
মঙ্গলবার সকালে জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আইভীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন বলে জানান তার পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।
এদিন আদালতে সেলিনা হায়াৎ আইভী আদালতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন জানিয়ে তার আইনজীবী বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মো. তুহিন নামে ৩৬ বছর বয়সী এক রিকশাচালক নিহতের ঘটনায় তার স্ত্রী আলেয়া আক্তার হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওই মামলার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ প্রতিবেদনের উপর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শুনানি ছিল।
এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আইভী জামিনে থাকলেও এদিন জেলা ও দায়রা আদালতে পুনর্জামিনের আবেদন করা হয়। পরে তা মঞ্জুর হয় বলে জানান আওলাদ হোসেন।
এদিকে, আইভীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। পরে আইভী আদালতে হাজিরা দেন এবং শুনানি শেষে তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের থেকে তিনবারের নির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন থেকে আইভীকে অপসারণ করা হয়।
পরের বছর ৯ মে সকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় দেওভোগের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি।
এরপর মোট ১২টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
প্রায় ১৩ মাস কারাগারে বন্দি থাকার পর গত ৩ জুন রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
