ক্রিকেট মাঠে সময়টা ভালো-মন্দ মিলিয়ে কাটলেও আইসিসির সর্বশেষ প্রকাশিত ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পেলেন বাংলাদেশের পেসাররা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের লড়াইয়ে বল হাতে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের সুবাদে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছেন তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম। অন্যদিকে ব্যাট হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে আফগানিস্তানের সেদিকউল্লাহ আতাল এবং বাংলাদেশের তানজিদ হাসান তামিমও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ৩টি উইকেট শিকার করেন গতি তারকা তাসকিন আহমেদ। এই নজরকাড়া পারফরম্যান্সের ফলস্বরূপ বোলারদের তালিকায় এক লাফে ৯ ধাপ এগিয়েছেন তিনি। বর্তমানে ৫৮৬ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তাসকিনের অবস্থান ১২ নম্বরে। ঠিক তার এক ধাপ ওপরে, অর্থাৎ ৫৮৭ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ১১তম স্থানে রয়েছেন আরেক পেসার শরীফুল ইসলাম। তবে এই ম্যাচে কিছুটা মলিন ছিলেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন; ৯ ওভারে ৬৬ রান দিয়ে ১ উইকেট পাওয়ায় তিনি ৬ ধাপ পিছিয়ে নেমে গেছেন ৮৪ নম্বরে।
ব্যাটিং অংশে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩৮ বলে কার্যকরী এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন তানজিদ হাসান তামিম। ৪৬ রানের ওই ইনিংসের সুবাদে ৩ ধাপ এগিয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ২১ নম্বর স্থানে। দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ ব্যাটার কুইন্টন ডি ককের সঙ্গে যৌথভাবে এই পজিশনে রয়েছেন তিনি।
তবে বাংলাদেশের অন্য ব্যাটারদের জন্য র্যাঙ্কিংটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না। তাওহিদ হৃদয় ৩ ধাপ নেমে ২৫ নম্বরে, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৬ ধাপ পিছিয়ে যৌথভাবে ৩৭ নম্বরে এবং মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ ধাপ নেমে ৭৯ নম্বরে অবস্থান করছেন।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি উভয় সংস্করণেই বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে নিজের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করলেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ম্যাচে মাত্র ৮ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। এতে তার রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে ২৮। বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের আবরার আহমেদের চেয়ে তিনি ৮০ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। চমৎকার এই ফর্মের সুবাদে অলরাউন্ডারদের তালিকাতেও দুই ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছেন এই আফগান স্পিনার। এই ফরম্যাটে বোলারদের তালিকায় আবরার দ্বিতীয় এবং প্রোটিয়া স্পিনার কেশব মহারাজ তৃতীয় স্থানে রয়েছেন।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন আফগানিস্তানের সেদিকউল্লাহ আতাল। ১১০ বলের মোকাবেলায় ১০২ রানের নান্দনিক এক ইনিংস খেলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। তার এই শতক এবং দলীয় নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হারায় আফগানিস্তান। র্যাঙ্কিংয়েও এর দারুণ প্রভাব পড়েছে; ৩২তম স্থান থেকে এক লাফে সরাসরি ২০তম স্থানে উঠে এসেছেন আতাল।
এছাড়াও ওয়ানডে ব্যাটারদের তালিকায় উন্নতি হয়েছে পাকিস্তানের সালমান আগার (১২তম) এবং ইংল্যান্ডের বেন ডাকেটের (১৩তম)। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের র্যাঙ্কিংয়েও পরিবর্তন এসেছে; ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ ৯ নম্বরে এবং তার সতীর্থ শেরফেন রাদারফোর্ড ১৮তম স্থানে উঠে এসেছেন। বোলারদের তালিকায় ক্যারিবীয় স্পিনার গুদাকেশ মোতি ১০ ধাপ এগিয়ে ২৬তম স্থানে জায়গা করে নিয়েছেন।
