প্রচলিত ও ঐতিহ্যবাহী ফসলের বাইরে গিয়ে অসময়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের পূর্ব ডাঙাপাড়া গ্রামের কৃষক ওমর আলী (৪৫)। মাত্র তিন বিঘা জমিতে বাঁশের মাচা তৈরি করে মাটির ওপর নেটের ব্যাগে ঝুলিয়ে তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। বর্তমানে মাচা জুড়ে ঝুলছে হলুদ ও কালচে সবুজ রঙের অসংখ্য তরমুজ। তিন বিঘা জমি থেকে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা নিট মুনাফা অর্জনের স্বপ্ন দেখছেন এই উদ্যমী কৃষক।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠজুড়ে বাঁশের খুঁটি, জিআই তার ও মোটা নেট দিয়ে তৈরি চমৎকার কাঠামো। পাতার ফাঁকে ফাঁকে প্রতিটি তরমুজ সুতা ও নেটের ব্যাগে মাচায় সুন্দর করে বাঁধা রয়েছে। দূর থেকে দেখতে লাউ বা কুমড়ো মনে হলেও কাছে গেলে দেখা মেলে চোখজুড়ানো বাহারি রঙের তরমুজের।
কৃষক ওমর আলী জানান, অনলাইনে মাচা পদ্ধতিতে অসময়ে তরমুজ চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে চারা সংগ্রহ করেন তিনি। মোট তিন বিঘা জমির মধ্যে দুই বিঘায় ‘কিং সুগার’ এবং এক বিঘায় ‘সূর্য ডিম’ জাতের ছয় হাজার চারা রোপণ করেছেন। গাছের বয়স বর্তমানে ৬০ দিন পেরিয়ে গেছে এবং আগামী ৭০ দিনের মাথায় পুরোপুরি ফসল সংগ্রহ শুরু হবে।
উৎপাদন খরচ ও সম্ভাব্য লাভের কথা জানিয়ে ওমর আলী বলেন, তিন বিঘা জমিতে এ পর্যন্ত চারা, মাচা ও নেট ব্যাগ বাবদ প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি তরমুজের গড় ওজন তিন কেজি হলে মোট ১৮ হাজার কেজি ফলন পাওয়া যাবে। বাজারে ৫০ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি করতে পারলে মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়াবে প্রায় নয় লাখ টাকা। অর্থাৎ সব খরচ বাদ দিলেও ছয় লাখ টাকা লাভ থাকবে। ইতোমধ্যেই ঢাকার কারওয়ান বাজারের পাইকারি কারবারিদের সঙ্গে বেচাকেনার প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় কৃষক জগদীশ রায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকায় আগে ভুট্টা, ধান বা গমের মতো চিরাচরিত ফসল চাষ হলেও মাচায় এভাবে তরমুজের ঝুলন্ত ফলন আমরা আগে কখনো দেখিনি। ওমর আলীর সফলতা দেখে আমরাও আগামী মৌসুমে এই উচ্চমূল্যের ফসল চাষে উৎসাহিত হচ্ছি।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমাযরা মন্ডল জানান, অসময়ে বাজারে তরমুজের প্রচুর চাহিদা থাকে। কৃষক ওমর আলীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কৃষি বিভাগ থেকে তাঁর ক্ষেত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। লাভজনক এই চাষ পদ্ধতি জেলার অন্যান্য কৃষকদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করছি।
