সৌদি আরবের জবাবও ‘সমান কঠোর’ হবে, সৌদি মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর সৌদি আরবের জবাবও ‘সমান কঠোর’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার রিয়াদে ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের জ্বালানি সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো গুরুতর। এর জবাবও সমান গুরুতর হতে হবে। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
সোমবারের বক্তব্যের আগে কয়েক দিনের ব্যবধানে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। নিহতদের মধ্যে সৌদি নাগরিক ছাড়াও বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন। পরদিন রোববার বিমানবন্দরের আরেকটি টার্মিনালে হামলায় আরও একজন নিহত হন।
এসব হামলার পর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবারও দেশটির আকাশপথে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি দেখা দেয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছে।
হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। রিয়াদ ও দাম্মামগামী কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিভিন্ন বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
হুতিরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ব্যবহার না করার জন্য বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সতর্ক করেছে। তবে মক্কা ও মদিনাগামী ফ্লাইটকে এই সতর্কতার বাইরে রাখার কথা জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির দাবি, ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার জবাবেই সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে। তার দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে ১২৪টি বিমান হামলার জবাবে রিয়াদ ও দাম্মামের বিমানবন্দর এবং পূর্বাঞ্চলের দুটি তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব দাবির সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বিমানবন্দরের পাশাপাশি তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার দাবি সৌদি আরবের জন্য বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকলে শুধু বিমান চলাচল নয়, জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক বাণিজ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশেও সংঘাত তীব্র হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি পরিবহনে প্রভাব পড়তে পারে। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা পুনর্দখলে অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে, হুতিরা তাদের অবস্থান ধরে রাখার দাবি করছে।
হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিচ্ছে।
ইরান হুতিদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। চলমান উত্তেজনায় উদ্বেগ জানিয়ে দেশটি সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ইয়েমেনে ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটির গৃহযুদ্ধ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করে। পরের বছর ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ সংঘাতের পরও দেশটিতে স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান আসেনি।
সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপে সেই সংঘাত আবারও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বড় সংকটে রূপ নিচ্ছে। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রীর কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারির পর এখন নজর দেশটির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
