বলিউড তারকাদের ঘিরে হামলা ও হুমকির ঘটনায় আবারও আলোচনায় কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নামে ছড়িয়ে পড়া একটি বার্তায় হামলার দায় স্বীকারের পাশাপাশি সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে বার্তাটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত নয়।
লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে কারাগারে বন্দী। কিন্তু কারাগারে থেকেও সহযোগীদের মাধ্যমে অপরাধচক্র পরিচালনার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছেন তিনি। ভারতের একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও তারকাদের হুমকির ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছে।
১৯৯৩ সালে ভারতের পাঞ্জাবে জন্ম নেওয়া লরেন্স বিষ্ণোই পড়াশোনার জন্য চণ্ডীগড়ে যান। সেখানে ডিএভি কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। এ সময় গোল্ডি ব্রারের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ছাত্ররাজনীতির বিরোধ ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে তিনি অপরাধজগতে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সালমান খানের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের বিরোধের সূত্র ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা। রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিং চলাকালে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে সালমানের বিরুদ্ধে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে ক্ষোভ তৈরি হয়।
২০১৮ সালে এ মামলায় সালমান খানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। একই বছর সালমানকে হত্যার হুমকির ঘটনা সামনে আসে। পরবর্তী সময়েও তাকে ঘিরে হুমকি অব্যাহত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়।
২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সালমানের বাসভবন গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি এ হামলা চালান। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে বিষ্ণোই চক্রের যোগসূত্রের অভিযোগ উঠে আসে।
এ ছাড়া ২০২২ সালের ২৯ মে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডেও বিষ্ণোই চক্রের নাম আলোচনায় আসে। বিদেশে অবস্থানরত গোল্ডি ব্রার ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলো এ ঘটনায় লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সহযোগীদের অভিযুক্ত করে।
২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে মহারাষ্ট্রের সাবেক মন্ত্রী বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ডের পরও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নামে হুমকির বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। সালমান খানের সঙ্গে বাবা সিদ্দিকির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় ঘটনাটি অভিনেতার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে।
এদিকে, তারকাদের লক্ষ্য করে হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় স্বীকারের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে রয়েছে। এসব বার্তার মাধ্যমে অপরাধী চক্র নিজেদের প্রভাব ও ভীতিকর ভাবমূর্তি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তবে কোনো গোষ্ঠীর নামে বার্তা প্রকাশিত হলেই সেই গোষ্ঠী হামলার সঙ্গে জড়িত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বার্তার উৎস, হামলাকারীদের পরিচয় এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই করা জরুরি।
টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সালমান খানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের সরাসরি যোগসূত্র তদন্তে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
The post কারাগারে থেকেও বলিউডে হত্যা-হামলা, কে এই গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই? appeared first on ভোরের চেতনা.
