ম্যাচ বাঁচানোর কঠিন চ্যালেঞ্জে পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনে বেশ ভালো লড়াই করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পরপরই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং। জশ হেইজেলউডের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে বিশাল জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল প্যাট কামিন্সের দল।
ডারবানে সিরিজের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার জয় ২১৪ রানে। ৪২১ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় শেষ দিনের দ্বিতীয় সেশনে ২০৬ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় সেই বল টেম্পারিং বিতর্কের তুমুল আলোচিত সিরিজের পর, সেখানে প্রথম এই সংস্করণে খেলতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত হলো অস্ট্রেলিয়ার।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৯ রানে ৬ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন হেইজেলউড। ৭৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে এই নিয়ে ১৫ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন ৩৫ বছর বয়সি পেসার। তার আগের সেরা বোলিং ছিল ৬৭ রানে ৬ উইকেট, ২০১৭ সালে ভারতের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুতে।
তবে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের মূল নায়ক ম্যাট রেনশ। তার ১৯০ ও ৮২ রানের দুটি ইনিংসই গড়ে দেয় ব্যবধান। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেটও নেন তিনি। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনি অনুমিতভাবেই।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লড়াই করেন কেবল এইডেন মার্করাম। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৭ বলে ৭৫ রান করেন তিনি। দলটির আর কেউ পঞ্চাশ ছুঁতে পারেননি।
দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হিসেবে ১৩ টেস্টে প্রথম হারের তেতো স্বাদ পেলেন টেম্বা বাভুমা। তার নেতৃত্বে আগের ১২ টেস্টের ১১টিতে জিতেছিল দল, ড্র হয় একটি।
কিংসমিডে ৪ উইকেটে ১০২ রান নিয়ে মঙ্গলবার শেষ দিনের খেলা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগের দিন ৪৫ রানে অপরাজিত থাকা মার্করাম ফিফটি করেন ১২৯ বলে। ভিয়ান মুল্ডারকে নিয়ে প্রথম ঘণ্টা নিরাপদে পার করে দেন তিনি।
দ্বিতীয় ঘন্টায় ২০৫ বল স্থায়ী ৬৯ রানের জুটি ভাঙেন হেইজেলউড। তবে সেখানে বড় অবদান কিপার অ্যালেক্স কেয়ারির।
লেগ গালি পজিশনে ফিল্ডার রেখে ফাঁদ পেতেছিলেন হেইজেলউড, আর সেই ফাঁদেই পা দেন মুল্ডার। লেগ সাইডের অনেক বাইরের বলে খোঁচা দেন তিনি, ঝাঁপিয়ে পড়ে এক হাতে বল মুঠোয় জমান কিপার কেয়ারি।
ওই সাফল্যের হাত ধরে পরের ওভারে উইকেট মেলে আরেকটি। আক্রমণে ফিরেই কাইল ভেরেইনাকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পান রেনশ।
লাঞ্চের আগে আর কোনো বিপদ হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ৬ উইকেটে ১৬৬ রান নিয়ে বিরতিতে যায় তারা।
মার্কো ইয়ানসেনের সঙ্গে জুটিতে আরেকটি প্রতিরোধ গড়েন মার্করাম। ৮২তম ওভারে দ্বিতীয় নতুন বল নেয় অস্ট্রেলিয়া। সাফল্যও মেলে দ্রুতই। ৮৫তম ওভারে চার বলের মধ্যে ইয়ানসেন ও সাইমন হার্মারকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হেইজেলউড।
পরের ওভারে মার্করামের লড়াই থামান মিচেল স্টার্ক। হেইজেলউড তার পরের ওভারে আনরিখ নরকিয়াকে আউট করে ইতি টেনে দেন ম্যাচের।
দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬ বল ও ৫ রানের মধ্যে হারায় শেষ ৪ উইকেট।
ম্যাচের প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়ার ১২৪ রানেই ৬ উইকেট তুলে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা, কিন্তু সেখান থেকে সফরকারীদের বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেয় তারাই। ওই ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রথম ইনিংসে চারশর কাছাকাছি সংগ্রহ পাওয়ার পর আর পথ হারাননি কামিন্সরা।
তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট আগামী ২৭ অক্টোবর শুরু হবে কেপ টাউনে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৩৯০
দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ২৮৪
অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ৩১৪/৬ ডিক্লে.
দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪২১) ৮৬.৫ ওভারে ২০৬ (আগের দিন ১০২/৪) (মার্করাম ৭৫, মুল্ডার ২৯, ভেরেইনা ১, ইয়ানসেন ৩৫, হার্মার ০, মহারাজ ১*, নরকিয়া ৪; স্টার্ক ১৬-৫-৩৩-১, হেইজেলউড ১৬.৫-৪-৪৯-৬, কামিন্স ১৪-৫-৩৪-১, লায়ন ২০-৫-৩২-০, রেনশ ১৩-২-৩০-২, ওয়েবস্টার ৩-২-৪-০, ম্যাডিনসন ৪-১-১৮-০)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ২১৪ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া
ম্যান অব দা ম্যাচ: ম্যাট রেনশ
