১২ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ১২ মিনিট আগে
স্পোর্টস ডেস্ক
স্পেন থেকে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নিয়ে ফিরেছিলেন লিওনেল মেসি। তবে দীর্ঘ সফরের ধকল সামলাতে তাকে শুরুর একাদশে রাখেনি ইন্টার মায়ামি। দলের বিপদে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামলেও এবার আর জাদু দেখাতে পারলেন না আর্জেন্টাইন মহাতারকা। উল্টো আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়া মায়ামি শেষ মুহূর্তে আরও একটি গোল হজম করে হেরেছে নিউইয়র্ক রেড বুলসের কাছে।
শনিবার নিউ জার্সির স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড স্টেডিয়ামে ইন্টার মায়ামিকে ২-০ গোলে হারিয়েছে নিউইয়র্ক রেড বুলস। টানা তিন জয়ের পর মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) হারের স্বাদ পেল মেসির দল। সপ্তম মিনিটে কাসেমিরোর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এমিল ফর্সবার্গ।
শুক্রবার স্পেনের ওভিয়েদোতে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার গ্রহণ করেন মেসি। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। পুরস্কার নিতে স্পেনে যাওয়ায় ম্যাচের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পাননি আর্জেন্টাইন তারকা। তাই রেড বুলসের বিপক্ষে তাকে বেঞ্চে রেখে একাদশ সাজায় মায়ামি।
মেসিকে ছাড়া শুরু থেকেই আক্রমণ সাজাতে হিমশিম খায় সফরকারীরা। সেই সুযোগে সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় নিউইয়র্ক। বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ডি-বক্সের ভেতর ক্রস পাঠান হোর্হে রুভালকাবা। জুলিয়ান হলের উদ্দেশে বাড়ানো বলটি বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন মায়ামির ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাসেমিরো।
শুরুর গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে নিউইয়র্ক। বলের দখলে পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে ছিল তারাই বেশি সক্রিয়। ম্যাচজুড়ে মাত্র ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেও ১৮টি শট নেয় স্বাগতিকরা।
১৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন জুলিয়ান হল। কিন্তু ডি-বক্সের মাঝখানে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে নেওয়া তার হেড চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। পাঁচ মিনিট পর রোনাল্ড ডনকরের শট ঠেকিয়ে দেন মায়ামি গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার।
৩২ মিনিটে রুভালকাবাও ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে হলের আরেকটি প্রচেষ্টা আটকে দেন মায়ামির ডিফেন্ডার মিকায়েল।
অন্যদিকে প্রথমার্ধে মায়ামির আক্রমণ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ। বিরতির ঠিক আগে রদ্রিগো দি পলের একটি শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ম্যাচে ফেরার আশায় ৫৬ মিনিটে মেসিকে মাঠে নামায় মায়ামি। রিকেলমে ফিলিপির বদলি হিসেবে নামেন আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী।
মাঠে নেমে আক্রমণে গতি আনার চেষ্টা করেন মেসি। তবে নিউইয়র্কের রক্ষণভাগ তাকে খুব বেশি জায়গা দেয়নি। গোলের লক্ষ্যে সরাসরি শট নিতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
৮৩ মিনিটে অবশ্য মায়ামিকে সমতায় ফেরানোর ভালো সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন মেসি। তার পাস থেকে সের্হিও রেগিলনের হেড পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন নিউইয়র্ক গোলরক্ষক ইথান হরভাথ।
মায়ামি যখন সমতার গোলের জন্য মরিয়া, ঠিক তখনই দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যান ক্যামেরন হার্পার। তার পাস থেকে ডি-বক্সের মাঝখানে ফাঁকায় বল পান ফর্সবার্গ। ডান পায়ের শটে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান সুইডিশ এই মিডফিল্ডার।
দ্বিতীয় গোল হজমের পর মেসি নিজেও গোলের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার শট আটকে দেন নিউইয়র্কের ডিফেন্ডার ডিলান নিয়ালিস। শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মায়ামি। অথচ এই ম্যাচের আগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন মেসি। এমএলএসে আগের ১১ ম্যাচে করেছিলেন ১৩ গোল। চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা ২৫।
এই জয়ে টানা দুই হারের ধাক্কা কাটিয়েছে নিউইয়র্ক রেড বুলস। ৩১ ম্যাচে ১১ জয়, ৬ ড্র ও ১৪ হারে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের অষ্টম স্থানে উঠেছে তারা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ১৫ জয়, ১০ ড্র ও ৬ হারে মায়ামির সংগ্রহ ৫৫ পয়েন্ট। সর্বশেষ ১০ ম্যাচে চার জয়, চার ড্র ও দুই হার তাদের।
আগামী বুধবার নিজেদের মাঠে এফসি সিনসিনাটির মুখোমুখি হবে ইন্টার মায়ামি।
