আজকাল ওয়েবডেস্ক: অত্যাধিক দর্শনার্থীর চাপ, প্রবল বৃষ্টির কারণে শনিবার পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে। এই দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২৫ জন। এর পরেই শহরের বেশ কয়েকটি বড় পুজো কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়। পুজো সামাল দিতে ন’জন আইপিএস আধিকারিককে কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এরপরেই ভিড় সামলাতে একের পর এক নির্দেশিকা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। কলকাতার সব বড় পুজোর ভিআইপি পাস বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। রবিবার কালীঘাটের অন্যতম বড় পুজো ত্রিধারা সম্মেলনী বা ত্রিধারা অকালবোধনকে ভিআইপি পাসে মণ্ডপে প্রবেশ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। শুধু ত্রিধারা নয়, বালিগঞ্জ কালচারালও ভিআইপি পাস বন্ধের ব্যাপারে ফেসবুক পেজে জানিয়েছে। এর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে আরও একগুচ্ছ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশি নির্দেশ মান্য করে তাদের ফেসবুক পেজে ভিআইপি পাস বন্ধের ব্যাপারে জানিয়েছে ত্রিধারা। এর পাশাপাশি পুলিশি নির্দেশিকাও পোস্ট করা হয়েছে। রবীন্দ্র সরোবর থানার তরফে জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে-
১. পুজোমণ্ডপে প্রবেশের জন্য কোনও ভিআইপি গেট থাকবে না। ভিআইপি গেট থাকলেও তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. পুজোমণ্ডপের ভিতরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। আগত দর্শনার্থীরা যাতে প্যান্ডেলের ভিতর থেকে ঠিক ভাবে নজরে রাখতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. দমবন্ধকর পরিস্থিতি এড়াতে মণ্ডপের ভিতরে পাখার ব্যবস্থা করতে হবে এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে।
৫. মণ্ডপে প্রবেশ এবং প্রস্থানের পথে অস্থায়ী খাবারের দোকান, চা-কফির দোকান বন্ধ করতে অবিলম্বে। প্রবেশ এবং প্রস্থানের পথ খালি রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে পদপিষ্টের কারণে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। এরপরেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো। কলকাতা পুলিশের তরফে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভারতীয় ন্যয় সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-র ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরেই রাজ্য সরকার ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮ টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করেছে। কলকাতা পুলিশও ০৩৩ ২২১৪১৩১০ টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করেছে। মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং সরকারি গ্রপ ডি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহতদের পাঁচ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ এবং চিকিৎসার সব খরচ বহনের দায় নিয়েছে রাজ্য সরকার।
এই ঘটনার পরেই কলকাতার বড় পুজোগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নতুন করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য। মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে গঠন করা হয় উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শক দল। এরপরেই ত্রিধারা-সহ শহরের সব বড় পুজোকে একগুচ্ছ নির্দেশিকা দিল কলকাতা পুলিশ।
