উৎপাদন চালুর মাত্র দুই দিনের মাথায় গ্যাসের তীব্র সংকট ও সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা থেকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পক্ষ থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় এই আকস্মিক স্থবিরতা নেমে আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করে কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন জানান, গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় বর্তমানে পুরো কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন ১৯৯২ সালের ১ জুলাই বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই কারখানার দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য এই কারখানায় ৪২ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও দীর্ঘ আট মাস গ্যাস সংকট ও অচলাবস্থার পর ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ পেয়ে স্টার্ট-আপ বা প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার রাতে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হলেও তখন গ্যাসের কাঙ্ক্ষিত চাপ ছিল না; মাত্র ৩৮ থেকে ৩৯ পিএসআই চাপ নিয়েই উৎপাদন শুরু করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে গ্যাসের চাপ আরও কমে ২৬ থেকে ২৭ পিএসআইয়ে নেমে আসে এবং উৎপাদন শুরুর মাত্র ৪৩ ঘণ্টার মাথায় কারখানার বয়লারে লিকেজ দেখা দেয়। যদিও লিকেজ মেরামত করা হয়েছিল, তবে অপর্যাপ্ত গ্যাসের চাপের কারণে কর্তৃপক্ষ আর উৎপাদনে যেতে পারেনি। নানা শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে শুক্রবার সকালে সার উৎপাদন পুনরায় সচল করা হলেও রোববার ভোরে গ্যাস সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় কারখানাটি আবারও বন্ধ হয়ে গেল।
এই গুরুত্বপূর্ণ কারখানাটি বন্ধ থাকায় জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার প্রায় আড়াই হাজার ডিলার সার উত্তোলন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। স্থানীয় সচেতনমহল ও সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং নিয়মিত গ্যাস সংকটের অজুহাত দেখিয়ে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় উৎপাদন ব্যাহত করে নিম্নমানের সার আমদানির পথ সুগম করা হতে পারে। এ বিষয়ে কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পরই আমরা সার উৎপাদন শুরু করেছিলাম। কিন্তু তিতাস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় কারখানাটি আবারও বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।
