Published on
:
2 min read
নির্মল বসু, হিঙ্গলগঞ্জ
উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের সুন্দরবন সংলগ্ন প্রত্যন্ত গ্রাম বিশপুর। সেই গ্রামের বাসিন্দা ধ্রুব শীট মণ্ডল। টাকার অভাবে একজোড়া চটি কেনার সামর্থ্য নেই। সকাল হলেই খালি পায়ে মাথায় মশলা মাখানো ভেজানো ছোলার ঝুড়ি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করেন ধ্রুব। সারাদিনে বিক্রি হয় চার পাঁচশো টাকার ছোলা। ওই টাকায় কোনও রকমে সংসার চলে। কিন্তু সেই সামান্য টাকা থেকেই প্রতিদিন একটু টাকা মাটির ঘটে সরিয়ে রাখা ধ্রুবর অভ্যাস। সারা বছর তিলতিল করে জমানো পয়সায় গত ১৫ বছর ধরে বাড়িতে দুর্গাপুজো করেন ধ্রুব।
পরিবারে মা, অসুস্থ দিদি, এক ভাগ্নি ও তাঁর সন্তান। স্ত্রী–ছেলেমেয়ে কলকাতায় থাকে। আক্ষেপের সুরে ধ্রুব বলেন, ‘ওরা আমাদের দেখার সময় পায় না। সরকারের দেওয়া বাড়িতে কোনও রকমে রাত কাটাই।’ ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলেও অর্থের অভাবে ঠিক মতো চিকিৎসা না হওয়ায় শারীরিক সমস্যা রয়েছে। ভারি কোনও কাজ করতে পারেন না। তাই মশলা ছোলা বিক্রি শুরু করেন।
গত ১৫ বছর ধরে আজও দুর্গাপুজোর জন্য ছোলা বিক্রির একটা অংশ টাকা রেখে দেন ঘটে। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা মাথায় ছোলার ঝুড়ি নিয়ে ধ্রুবর পথ চলা বন্ধ হয়নি। বিশপুরের বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভান্ডারখালি, বাঁকড়া, নেবুখালিতে ঘুরে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে ছোলা বিক্রি করেন ধ্রুব।
তিনি বলেন, ‘গ্রামবাসীদের মঙ্গল কামনায় ছোলা বিক্রির টাকায় কয়েক বছর ধরে পুজো করায় গ্রামের মানুষ খুব খুশি। তাই তো শহরের টানে পরিবার আমাকে ছেড়ে চলে গেলেও গ্রামের মানুষ ভালোবাসে।’
গ্রামের কয়েকজন সাহায্য করেন। স্বপন মণ্ডল করুণা পাত্র এবং রহিমা বিবির মতো গ্রামবাসীরা জানান, যে ভাবে মাইলের পর মাইল হেঁটে ছোলা বিক্রি করে জমানো টাকায় প্রতিমা কিনে দুর্গাপুজো করে মানুষের মঙ্গল কামনা করেন ধ্রুব তা একটা দৃষ্টান্ত।
