শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে সাতক্ষীরা জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। জেলার বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযান চালানো হচ্ছে। গত ১ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ১১ দিনের এই বিশেষ অভিযানে ২ হাজার ২টি যানবাহন তল্লাশি করে ১৪৮টি যানবাহন আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুরি, চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অপরাধে মোট ৯৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলাজুড়ে পুলিশের এ তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। শহরের খুলনা রোড মোড়, বিনেরপোতা, মেডিকেল কলেজ এলাকা ও বাইপাস সড়কসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। অপরাধীরা কৌশল পরিবর্তন করলে পুলিশকেও পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তন করতে হয়। জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১৪৮টি যানবাহন আটক করা হয়। এর মধ্যে ১২২টি যানবাহনের আইনি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি করা হয়েছে এবং বাকি ২৬টি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
আটক যানবাহনের বিরুদ্ধে মোটরযান আইনে মামলা দায়ের করে তাৎক্ষণিকভাবে ৬ লাখ ৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রসিকিউশন দাখিল করা মামলাগুলোতে আরও ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, চেকপোস্টের কার্যক্রম শুধু যানবাহন তল্লাশির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; এর পাশাপাশি মাদক, চুরি, চোরাচালান ও সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধে জড়িতদের শনাক্ত করেও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এই ১১ দিনে চুরি ও চোরাচালানের অভিযোগে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ও জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন সন্দেহে আরও ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একই সময়ে জেলাজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২৮ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিল/কাফ সিরাপের মতো বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের এই বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
