সংবাদ সংস্থা মুম্বই: দিল্লির এক সাধারণ ছেলে থেকে আজকের ‘কিং খান’ হয়ে ওঠার এই পথটা মোটেও সহজ ছিল না। উচ্চাশা, অনিশ্চয়তা আর অদম্য জেদের এক অবিশ্বাস্য ককটেল শাহরুখ খানের এই রূপকথা সদৃশ কেরিয়ার। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন, যে ইন্ডাস্ট্রিকে একসময় তিনি এড়িয়ে চলতে চাইতেন, সেখানেই পা রাখার আসল কারণটি লুকিয়ে ছিল এক গভীর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির অন্তরালে। নয়ের দশকের গোড়ায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তা খোলসা করে দিয়েছিলেন শাহরুখ।
১৯৯১ সালের সেই সাক্ষাৎকারে শাহরুখ অকপটে স্বীকার করেছিলেন যে ছোটবেলা থেকেই তিনি কখনও সিনেমার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন না। বরং ইন্ডাস্ট্রির রীতিনীতি দেখলে তাঁর একপ্রকার বিতৃষ্ণা জন্মাত। শাহরুখ বলেছিলেন, “ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি আর তার চালচলনের কথা শুনলেই আমার কেমন যেন অস্বস্তি হত। আমি কখনওই এর অংশ হতে চাইনি। কিন্তু এই বছরের শুরুর দিকে যখন আমার মা মারা গেলেন, তখন আমার সমস্ত মানসিকতা বদলে যায়। আমি তাঁকে ভীষণ ভালবাসতাম, আর তিনি সবসময় আমাকে বড়পর্দায় দেখতে চাইতেন। হয়তো অভিনয়ে আসার জন্য তখন বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু মায়ের সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই আমি এই পথ বেছে নিয়েছিলাম।”
https://www.youtube.com/watch?v=vZCv49OXTLI&t=422s
দিল্লির বাড়ি ছেড়ে মুম্বই পাড়ি জমানোর পেছনের কারণ বলতে গিয়ে অভিনেতা আরও যোগ করেন, “...তাছাড়া, দিল্লির ওই বাড়িতে এক মুহূর্তও থাকা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। সেখানকার প্রতিটি কোণায় মায়ের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। তাই আমি বোম্বে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিই, যাতে একটা ব্রেক নিয়ে দিনরাত শুধু কাজে ব্যস্ত থাকতে পারি।”
অভিনয় শিক্ষা নিয়ে চিরকালই একটু অন্যরকম ও আত্মবিশ্বাসী ভাবনা ছিল শাহরুখ খানের। তাঁর মতে, অভিনয়ের জন্য কোনও বড় অ্যাকাডেমি বা ক্লাসের প্রয়োজন হয় না। মানুষ ও সমাজকে পর্যবেক্ষণ করা, নিয়মিত চর্চা করা এবং ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার মাধ্যমেই আসল অভিনেতা তৈরি হয়। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “আমি কিন্তু এভাবেই অভিনয় শিখেছি। বাজে অভিনেতাদের কাজ দেখে এবং তারা কোথায় ভুল করছে তা পরখ করেই আমি শিখেছি। আশা চন্দ্র বা রোশন তনেজার মতো কোনও অ্যাক্টিং ক্লাসে যাওয়ার কথা আমি স্বপ্নেও ভাবি না। বরং আমি নিজেই তাঁদের অভিনয়ের দু-একটা পাঠ দিতে পারি!”
তিনি আরও যোগ করেছিলেন, “আমার বিশ্বাস, কেউ আপনাকে শেখাতে পারবে না কীভাবে অভিনয় করতে হয়। এই গুণ আপনার ভেতরে থাকতে হবে, নয়তো নেই! অবশ্য অন্য সবকিছুর মতো অভিনয়ও নিয়মিত অনুশীলনে ধারালো হয়। আপনি ভুল করবেন এবং সেখান থেকেই শিক্ষা নেবেন।”
১৯৮৯ সালে জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘ফৌজি’-র মাধ্যমে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন শাহরুখ খান। এরপর ১৯৯০ সালে তাঁর মা লতিফ ফাতিমা খান প্রয়াত হন। মায়ের মৃত্যুর ঠিক পরের বছরই একাধিক ছবির চুক্তিবদ্ধ হয়ে ১৯৯২ সালে 'দিওয়ানা' ছবির হাত ধরে বড়পর্দায় রাজকীয় অভিষেক ঘটে এই সুপারস্টারের।
প্রসঙ্গত, খুব তাড়াতাড়ি পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘কিং’-এ বড়পর্দায় ঝড় তুলতে আসছেন শাহরুখ খান। আগামী ২৪ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ছবিটির।
