কালিয়াকৈরে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অটোরিকশাচালকদের মহাসড়ক অবরোধ
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চরম হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শত শত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার সূত্রাপুর বোর্ডঘর এলাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শত শত চালক তাদের অটোরিকশা মহাসড়কের মাঝে আড়াআড়ি করে রেখে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। শত শত যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও প্রাইভেট কার দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার জুড়ে আটকা পড়ে। এক পাশের লেন ফাঁকা থাকলেও অবরোধের কারণে কোনো গাড়ি চলতে পারেনি। এতে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী হাজার হাজার যাত্রী, নারী, শিশু ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চরম ভোগান্তিতে পড়ে। অনেক যাত্রীকে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। মাঝে মধ্যে অটোরিকশা আটক করে ডাম্পিং করা হয় এবং মামলা দিয়ে ২ হাজার ৬০০ টাকা আদায় করা হয়। এর প্রতিবাদ করলেই ডাম্পিংয়ের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী অটোচালক কামাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি কিস্তি তুলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কিনেছি। হাইওয়ে পুলিশ শুধু শুধু রাস্তায় হয়রানি করে। প্রতিবাদ করলে রিকশা ডাম্পিংয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। আমরা এর প্রতিকার চাই। আমরা গরিব মানুষ, দিন আনি দিন খাই। প্রতিদিন আটক করলে আমাদের সংসার চলবে কীভাবে?"
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি উত্তেজিত শ্রমিকদের মাঝে গিয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
চালকদের উদ্দেশ্যে ওসি বলেন, "এভাবে রাস্তা বন্ধ করা ঠিক না। এটা প্রতিবাদ করার সঠিক নিয়ম না। আপনারা গরিব মানুষ, আপনাদের কষ্ট আমি বুঝি। এই বিষয়টা আমি সরকারের কাছে এবং আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজে-কলমে লিখে জানিয়ে দেব। সরকার একটা ব্যবস্থা নেবে। আপনাদের দায়িত্ব আমি নিলাম। দয়া করে আপনারা রাস্তাটা ছেড়ে দিন। আপনাদের অবরোধের কারণে হাজার হাজার মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।"
এ সময় উপস্থিত স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি (চেয়ারম্যান) বলেন, "আমাদের ওসি সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি মানবিক কারণে আপনাদের মতো গরিব মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন। আমাদের এ রকম ওসির প্রয়োজন, এ রকম পুলিশের প্রয়োজন। আপনারা ওসি সাহেবের কথার ওপর ভরসা করে রাস্তা ক্লিয়ার করে দেন।"
পরে ওসি মো. শহিদুল ইসলামের আশ্বাস এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় প্রায় এক ঘণ্টা পর চালকেরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর ধীরে ধীরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তারা কাজ করছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
নোট: সংবাদের পূর্ণাঙ্গতার স্বার্থে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এবং বক্তব্য দেওয়া স্থানীয় সেই জনপ্রতিনিধির (ইউপি চেয়ারম্যান) নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন।
