সময় আর সম্পর্ক ভেদে মানুষের কত রূপ : দীপা খন্দকার
প্রায় তিন দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে ছোট ও বড়পর্দায় নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন অভিনেত্রী দীপা খন্দকার। সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার চরিত্রের ধরনও। একসময় নায়িকা চরিত্রে নিয়মিত দেখা গেলেও এখন মা, ভাবি, বোন, খালা কিংবা ফুফুর মতো চরিত্রে অভিনয় করছেন। সম্প্রতি ‘এটা আমাদেরই গল্প’ সিরিজে ফুফু চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। দীপা খন্দকার সোশ্যাল মিডিয়াতেও দারুণ সরব। কাজের খবর জানানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভাবনার কথাও এ মাধ্যমে শেয়ার করে থাকেন। গতকাল তার দেওয়া একটি পোস্ট বেশ নজর কেড়েছে। এতে দীপা খন্দকার লেখেন, ‘সময় অবস্থান আর সম্পর্ক ভেদে মানুষের কত রূপ দেখা যায়।’ দীপা খন্দকারের এই ভাবনার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন তার সহকর্মী ও ভক্ত-অনুরাগীরা। জামান নামে একজন লেখেন, ‘আসলেই তাই! অনেক অনেক শুভকামনা রইল।; মামুন অর রশিদ মামুন লেখেন, ‘অসাধারণ লিখেছেন! আসলেই মানুষ কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচে গড়া নয়। পরিস্থিতি আর সম্পর্কের আয়নাতেই মানুষের আসল রূপগুলো একেক সময় একেকভাবে প্রকাশ পায় আমার প্রিয় আপু।’ আশরাফ হোসেন লেখেন, ‘চমৎকার অভিব্যক্তি।’ দীপা খন্দকারের পোস্ট করা ছবির প্রশংসা করে উজ্জ্বল লেখেন, ‘কি পবিত্র মুখ।’ কয়েক দিন আগে শুরু হয়েছে ‘ফিরে আসার গল্প’ শিরোনামে নতুন ধারাবাহিক। এতে নেতিবাচক চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তাকে। এ বিষয়ে সোহেল রানা লেখেন, ‘নেগেটিভ চরিত্রে আপনাকে পছন্দ না। জাতীয় ফুফুই ভালো।’ এমন অসংখ্য মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে কমেন্ট বক্সে। তবে দীপা খন্দকার হঠাৎ কেন এমন ভাবনার কথা ভাগ করে নিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। ‘এটা আমাদেরই গল্প’ ধারাবাহিকের সাফল্যের পর পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ নির্মাণ করেছেন নতুন ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’। সম্পর্কের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে ধারাবাহিকটি। ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এ খায়রুল বাসার, ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, দীপা খন্দকার, নাদের চৌধুরী, মনিরা মিঠুসহ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী আলোচনায় ছিলেন। নতুন ধারাবাহিকটিতে তাদের সবাইকে দেখা যাচ্ছে না। তবে দীপা খন্দকার, খায়রুল বাসার, মনিরা মিঠুসহ বেশ কয়েকজন আছেন। গত ৭ অক্টোবর চ্যানেল আই ও সিনেমাওয়ালা ইউটিউব চ্যানেলে প্রচার শুরু হয়েছে ‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকের। পূর্বের মতো এ ধারাবাহিকও এরই মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এ নাটকের সবচেয়ে বড় চমক জাহিদ হাসান ও শহীদুজ্জামান সেলিম। সঙ্গে আছেন তরুণ প্রজন্মের তানজিম সাইয়ারা তটিনী ও খায়রুল বাসার। তাছাড়াও অভিনয় করছেন—এজাজুল ইসলাম, ফয়জুল ইয়ামিন, মুকিত জাকারিয়া প্রমুখ।

শুভর চার গানে মডেল বৃষ্টি আক্তার
সংগীতশিল্পী শুভর চারটি গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছেন বৃষ্টি আক্তার। গানগুলো হলো-‘শুধু তুই’, ‘বোঝাবো তোকে’, ‘তুমি আমি’ ও ‘তুমি আমার হয়ে থেকো’। গানগুলোর কথা লিখেছেন তাহামিদ ও শুভ। সংগীত পরিচালনায় রয়েছেন কাউসার খান। দেশের বাইরের বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে ধারণ করা হয়েছে মিউজিক ভিডিওগুলোর দৃশ্য। নতুন কাজগুলো নিয়ে উচ্ছ্বসিত শুভ। তিনি বলেন, বৃষ্টি আক্তার দারুণ অভিনয় করেছেন। তার অভিনয় এক কথায় অসাধারণ। আশা করছি, দর্শকদেরও মিউজিক ভিডিওগুলো ভালো লাগবে। খুব শিগগিরই ভিডিওগুলো প্রকাশ করা হবে। দর্শকদের জন্য এবার ভালো কিছু কাজ করার চেষ্টা করেছি আমরা। শুভর গানে মডেল হতে পেরে আনন্দিত বৃষ্টি আক্তারও। তিনি বলেন, শুভর গান তার খুব পছন্দের। তার গানের মিউজিক ভিডিওতে কাজ করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে। আশা করি দর্শকদের কাছে আমাদের জুটি ভালো লাগবে। মিউজিক ভিডিওগুলো খুব শিগগিরই টিআই অরিজিনালস ব্যানারে প্রকাশ করা হবে।

ভালো নেই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা
অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনাকে। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে গত ১৩ দিন চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। অভিনয়শিল্পী সংঘের আইন ও কল্যাণ সম্পাদক সূচনা সিকদার এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। অভিনয়শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল খালেদা আক্তার কল্পনাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। অভিনেত্রী সূচনা সিকদার বলেন, ‘সবার প্রিয় কিংবদন্তি অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা আন্টি গুরুতর অসুস্থ। গত ১৩ দিন ধরে ইনসাফ বারাকা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বর্তমানে আগের চেয়ে অনেকটা ভালো আছেন তিনি।’ খালেদা আক্তার কল্পনা ভাইরাসজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তার নিউরোর সমস্যাও রয়েছে, ৪/৫ দিন কথা বলতে পারছিলেন না। তবে এখন অনেকটাই সুস্থ। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বাসায় ফিরতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন সূচনা সিকদার। সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন খালেদা আক্তার কল্পনা। তা জানিয়ে সূচনা সিকদার বলেন, ‘তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। মহান আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থতা দান করেন এবং সুস্থভাবে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন।’ কয়েক মাস আগে খালেদা আক্তার কল্পনার শারীরিক অবস্থা বর্ণনা করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য সনি রহমান বলেছিলেন, ‘বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক। কল্পনা আপুও সেই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন।’ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৯৮৪ সালে চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করেন খালেদা আক্তার কল্পনা। তারপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি—দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। পরিচালক মিজানুর রহমানের ‘হনুমানের পাতাল বিজয়’ দিয়ে অভিনয়ে অভিষেক হলেও তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল মতিন রহমান পরিচালিত ‘রাধাকৃষ্ণ’। অভিনয়ে আসার আগের গল্পটাও যেন সিনেমার মতোই। শিক্ষকতা ছিল তার পেশা। একদিন লন্ড্রি থেকে আনা কাপড়ের ভাঁজে হঠাৎ চোখে পড়ে একটি বিজ্ঞাপন—‘নতুন মুখের সন্ধানে’। কৌতূহল থেকে আবেদন করেছিলেন, তারপর ভুলেও গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ছোট্ট কাগজটিই বদলে দেয় তার পুরো জীবন, এনে দেয় আলো-ঝলমলে এক যাত্রা। তবে সময়ের কাছে মানুষকে হার মানতে হয়। ফলে কর্মমুখর সেই মানুষটি নিভৃতে, নীরবে সময় কাটাচ্ছেন অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে। পর্দার উজ্জ্বল এই মুখের জন্য সহকর্মী, ভক্ত-অনুরাগীদের একটাই প্রার্থনা—আবার সুস্থ হয়ে হাসিমুখে কর্মব্যস্ত সময়ে ফিরে আসুক প্রিয় খালেদা আক্তার কল্পনা। খালেদা আক্তার কল্পনার উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলো- পাতাল বিজয়, রাধাকৃষ্ণ, তিনকন্যা, ঢাকা ৮৬, সন্ধি, আগমন, দায়ী কে, রকি, বীরপুরুষ, মায়ের কান্না, ডন, ববি, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সন্ত্রাস, লক্ষীর সংসার, চাকর, দোলা, অন্ধ প্রেম, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, পালাবি কোথায়, আনন্দ অশ্রু, শিল্পী, সতর্ক শয়তান, জিনের বাদশা, অচেনা, মহাগুরু, ফাঁসি, পাগল মন, অচল পয়সা, অচেনা মানুষ, বিদ্রোহী প্রেমিক, বাঘা বাঘিনী, বাঁশিওয়ালা, শেষ আঘাত, বাবার বাবা, কাসেম মালার প্রেম, লাভ, আয়না বিবির পালা, জিদ্দি, প্রেমের নাম বেদনা, নারী আন্দোলন, খুনের পরিণাম, বেপরোয়া, ফাঁসির আসামী, চাঁদকুমারী চাষার ছেলে, লাল সবুজ, মোহনমালার বনবাস, আঁখি মিলন, হৃদয় শুধু তোমার জন্য, নয়া বাইদানি, কান্দ কেন মন, গুণাই বিবি, ফাইভ রাইফেলস, গহর বাদশা বানেছা পরী, আখেরি হামলা, দুঃখিনী মা, ও আমার ছেলে, ঠাণ্ডা মাথার খুনি, বিচ্ছু বাহিনী, সাহসী মানুষ চাই, ভালোবাসা কারে কয়, লাল বাদশা, মেঘের পরে মেঘ, আমার প্রাণের প্রিয়া, ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না, গহীনে শব্দ, কুসুম কুসুম প্রেম, ডন নাম্বার ওয়ান ইত্যাদি।

সাত মাস পর শুটিংয়ে ফিরলেন আলভী
গত ফেব্রুয়ারিতে নাটকের শুটিংয়ে নেপাল গিয়েছিলেন অভিনেতা যাহের আলভী। সেখানে শুটিং চলাকালেই পান স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার খবর। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয় আলভীর বিরুদ্ধে। ইকরার পরিবার ও তার বান্ধবীরা অভিযোগ করেন, সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে ছিলেন আলভী, এ কারণেই আত্মহত্যা করেছেন ইকরা। এই মামলায় জেল ও রিমান্ডের মুখোমুখি হয়েছেন আলভী। জেল-রিমান্ড পেরিয়ে সাত মাস পর নাটকের শুটিংয়ে ফিরলেন তিনি। সোমবার সামির রহমান রাব্বির পরিচালনায় ‘বাবার মর্যাদা’ নামের নাটকের শুটিংয়ে অংশ নেন আলভী। এতে তার বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন শিবা শানু। শুটিং ইউনিটে কলাকুশলীদের নিয়ে কেক কেটেছেন আলভী। সেই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ছোট্ট একটা উদ্যাপন, কিন্তু অনেক বড় অনুপ্রেরণা। ফিরে আসার হাওয়া।’ শুটিং সেট থেকে শিবা শানু ও যাহের আলভীর সঙ্গে ছবি শেয়ার করে আলভীকে অভিনয়ের নতুন ইনিংসের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন নির্মাতা সামির রহমান রাব্বি। ফেব্রুয়ারিতে ইকরার মৃত্যুর পর বেশ কয়েক মাস নেপালেই ছিলেন যাহের আলভী। সেখান থেকে একাধিক ভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি। একটি ভিডিওতে স্ত্রীকে দোষারোপ করে নেটিজেনদের তোপের মুখেও পড়েছিলেন। গত ১৮ জুন নেপাল থেকে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ২৪ জুন দুই দিনের রিমান্ড শেষে আবার কারাগারে নেওয়া হয় তাকে। এরপর ৩ আগস্ট আদালত জামিন দেন যাহের আলভীকে।

ভারতের আন্দোলনে ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ গান ব্যবহার!
ককরোচ জনতা পার্টি, ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন করছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর ‘মার্চ টু সুপ্রিম কোর্ট’-এর ডাক দিয়েছিল কংগ্রেস সমর্থিত ইন্ডিয়া জোট। জোটের ডাকা এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, সমাজবাদী পার্টি ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিসহ মোট ২০টি দলের নেতাকর্মীরা। ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেস ত্রিপুরার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আন্দোলনের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে গায়িকা নাজনীন আখতার মৌসুমী চৌধুরীর গাওয়া ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ গানটি। গানের কথা ও সুর করেছেন ইথুন বাবু। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের আর. জি. কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদী আন্দোলনেও অনেকের মুখে শোনা গিয়েছিল এই গানটি। গানটি প্রকাশিত হয় ২০২২ সালে। ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ গানটি মৌসুমীর কণ্ঠে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও এটি প্রথম মঞ্চে গেয়েছিলেন খুলনার বাসিন্দা রুকসার রহমান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গানটি নতুন করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

