সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত-পায়ের জয়েন্ট শক্ত হয়ে থাকা, হাঁটতে গেলে হাঁটুতে ব্যথা কিংবা আঙুলের গিঁটে ফোলা—অনেকেই এসব সমস্যাকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক লক্ষণ বলে মনে করেন। কেউ কেউ আবার সাময়িক ব্যথা ভেবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজনও অনুভব করেন না। অথচ এসব উপসর্গের পেছনে থাকতে পারে আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে কিছু ক্ষেত্রে জয়েন্টের স্থায়ী ক্ষতিও হতে পারে।
আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন বাতজনিত ও পেশি-হাড়ের রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস। রোগীদের সমস্যা তুলে ধরা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।
আর্থ্রাইটিস কী, কেন হয়?
আর্থ্রাইটিস বলতে মূলত জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির প্রদাহ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রোগকে বোঝানো হয়। এ ধরনের সমস্যায় জয়েন্টে ব্যথা, ফোলা, শক্তভাব এবং স্বাভাবিক নড়াচড়ায় অসুবিধা দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিংবা দীর্ঘ সময় বিশ্রামে থাকার পর জয়েন্টের শক্তভাব বেশি অনুভূত হয়।
তবে সব ধরনের আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ এক রকম নয়। রোগের ধরন অনুযায়ী উপসর্গ, তীব্রতা ও জটিলতার পার্থক্য দেখা যায়। কিছু রোগে জয়েন্টের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গও আক্রান্ত হতে পারে। শুধু বয়স্ক ব্যক্তিরাই নন, শিশু-কিশোর ও তরুণদেরও কিছু ধরনের আর্থ্রাইটিস হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জয়েন্টে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা বা শক্তভাব দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সময়মতো রোগ শনাক্ত করা গেলে উপযুক্ত চিকিৎসা ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ, জয়েন্টের ক্ষতি কমানো এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম সচল রাখা সম্ভব। রোগের ধরন ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ওষুধ, ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন চিকিৎসার অংশ হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং চিকিৎসা-পরিকল্পনা অনুসরণ করা রোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়ক। তবে নিজের ইচ্ছায় ব্যথানাশক ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা বন্ধ করা উচিত নয়।
সচেতনতাই হতে পারে সুরক্ষার প্রথম ধাপ
ইউরোপিয়ান অ্যালায়েন্স অব অ্যাসোসিয়েশনস ফর রিউমাটোলজি (ইউলার)-এর তথ্যানুযায়ী, ১৯৯৬ সালে দিবসটি চালু হয়। বিশ্বজুড়ে বাতজনিত ও পেশি-হাড়ের রোগে আক্রান্ত মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মক্ষমতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের ওপর এসব রোগের প্রভাব তুলে ধরাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের মূল বার্তা হলো- জয়েন্টের ব্যথাকে বয়সজনিত স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে উপেক্ষা না করা, রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া। সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
জয়েন্টের ব্যথা সব সময় আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ নয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ফোলা বা শক্তভাব দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই হতে পারে সুস্থ থাকার প্রথম পদক্ষেপ।
