Published on
:
1 min read
তীব্র সামাজিক ভেদাভেদ আর বঞ্চনা থেকেই শুরু হয়েছিল পুজো। ১৮৪২ সাল, বাংলার ১২৪৯ সন। সেই সময়ে তথাকথিত নিম্নবর্ণ হওয়ার কারণে কোনও পুজোয় অংশ নেওয়ার অধিকার ছিল না রুইদাস সম্প্রদায়ের মানুষদের। সেই অপমান ও বঞ্চনা থেকেই বাঁকুড়ার নতুনচটি রুইদাস পাড়ায় শুরু হয়েছিল কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। তবে কালের নিয়মে বদলেছে সমাজ। মুছে গিয়েছে জাতপাতের বিভেদ। ঐতিহ্যের শিকড় ধরে চলতি বছর ১৮৫তম বর্ষে পা দিল বাঁকুড়ার নতুনচটি রুইদাস পাড়ার লক্ষ্মীপুজো।
বঞ্চনার ক্ষতে প্রলেপ দিতে শুরু হওয়া এই পুজো আজ বাঁকুড়ার উজ্জ্বল সম্প্রীতির প্রতীক। বর্তমানে নতুনচটি রুইদাস পাড়া ষোলোআনা লক্ষ্মী মন্দির কমিটির উদ্যোগে একটি স্থায়ী মন্দির তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দেবী মূর্তিও প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। কোজাগরী পূর্ণিমায় পুজো-অর্চনা ছাড়াও নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে মন্দিরে। এ ছাড়াও, মন্দিরে রয়েছে নরনারায়ণ সেবার ব্যবস্থাও।
এই পুজোর বিশেষত্ব হলো আড়ম্বর বাড়লেও এই পুজোয় আজও বজায় রাখা হয়েছে এক অনন্য আত্মমর্যাদা। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এ বারের পুজোর বাজেট প্রায় সাত লক্ষ টাকা। তবে এই বিপুল খরচের জন্য বাইরের কারও কাছ থেকে এক পয়সাও চাঁদা নেওয়া হয় না। পুজোর যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করেন রুইদাস সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেরাই। নিজেদের জমানো টাকায় তাঁরা সুন্দর ভাবে পরিচালনা করেন সমস্ত উৎসব।
১৮৪ বছর আগের লড়াই আজ পরিণত হয়েছে সামাজিক ঐক্যে। অতীতের জাতপাতের কালো মেঘ কাটিয়ে আজ সব জাতি ও ধর্মের মানুষ এই পুজোয় একসঙ্গে হাত মেলান। ঐতিহ্যের ধারা বজায় রেখে এ বছরও জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত মানুষকে পুজোয় শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মন্দির কমিটির সদস্যরা।