লক্ষ্মী সুখ, সমৃদ্ধি এবং ঐশ্বর্যের প্রতীক। দুর্গাপুজোর সময় মায়ের সঙ্গে তিনি মর্ত্যে আসেন। প্রথা মেনে দশমীতে ফিরে যান। আবার শরৎ পূর্ণিমা তিথিতে পূজিতা হন তিনি। যা কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো নামে পরিচিত। তন্ত্রেও বিরাজ করেন দেবী লক্ষ্মী। তান্ত্রিক মতে তাঁর পুজো করা যায়। ধনদেবীর তান্ত্রিক রূপের নাম হল কমলা। কেউ কেউ বলেন কমলে কামিনী।
কমলা হল দশমহাবিদ্যার দশম রূপ। কমলা হলেন দেবী লক্ষ্মীর পরম বিদ্যার রূপ। তান্ত্রিক লক্ষ্মী অর্থাৎ কমলা ধন-সম্পদ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মোক্ষ লাভ বা মুক্তির দেবী। বিশেষ বীজমন্ত্রের মাধ্যমে তান্ত্রিকেরা দেবী কমলার সাধনা করেন। আর্থিক সংকটের সময়ে দেবীর আরাধনা করা হয়। তাতে দারিদ্র্য দূর হয়।
দেবী কমলার গাত্র বর্ণ সোনালী। দেবী সালঙ্করা। তিনি চতুর্ভুজা। দুটি হাত থাকে অভয় এবং বরদান মুদ্রায় ও অন্য দুই হাতে থাকে পদ্ম। পদ্মাসনে একটি পদ্মের উপর উপবিষ্ট হন কমলা। তাঁকে ঘিরে থাকে হস্তিদ্বয়। হাতিরা অমৃত কলসের মাধ্যমে দেবীর জল অভিষেক সম্পন্ন করে। আদতে তান্ত্রিক লক্ষ্মী হলেন মহালক্ষ্মী।
আবার তান্ত্রিক শাস্ত্রে কোথাও কোথাও অঘোর লক্ষ্মীর উল্লেখ পাওয়া যায়। সম্পদ, ঐশ্বর্য কামনায় তাঁর পুজো করা হয়। অঘোর লক্ষ্মী উগ্র রূপ, গুপ্ত পুজোর মাধ্যমে সেই রূপের আরাধনা করা হয়। লক্ষ্মী হলেন গৃহের দেবী। পূর্ণিমা রাতে চারদিক যখন আলোয় বানভাসি হয়, তখন লক্ষ্মীর আরাধনা হয়। আবার গোপনে, আড়ালেও তাঁর পুজো হয়। তান্ত্রিক, গুপ্ত সাধকেরা লোকচক্ষুর অন্তরালে তাঁর পুজো করেন। তখন তিনি হয়ে ওঠেন তন্ত্রের দেবী কমলা। তন্ত্র মত এবং চিরায়ত, দুই লক্ষ্মীপুজোর আদত উদ্দেশ কিন্তু অদ্বিতীয়— দেবী যেন অচঞ্চলা হয়ে বিরাজ করেন এবং সম্পদ দান করেন।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
