সহকারী প্রধান শিক্ষককে প্রধান আসামি করে থানায় অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল—শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে ককটেল থাকার অভিযোগে উদ্বেগ
নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী আব্দুল মান্নান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নাল আবেদীনের ওপর হামলা, ডিম নিক্ষেপ, গালিগালাজ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক। ঘটনাটি আজ জানাজানি হওয়ার পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, ভিডিওতে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের হাতে ককটেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকার দৃশ্য ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষককে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ চেষ্টা অভিযোগ উঠেছে এসেছে।
তবে ভিডিও শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে এমন সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করা হয়ে থাকলে তা শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের নিজ কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন। এ সময় বাইরে হট্টগোলের শব্দ শুনে তিনি দেখতে পান, সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে স্টিলের পাইপ, লাঠি, ছুরি, ককটেল ও ডিম হাতে তাঁর কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম নিজে প্রধান শিক্ষক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য প্রচার করে আসছেন। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার দিন কার্যালয়ের দরজার সামনে থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হলে তা তাঁর কপালের বাঁ পাশে লাগে। পরে রফিকুল ইসলাম কক্ষে প্রবেশ করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণভয়ে দ্রুত বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন। প্রধান শিক্ষক আসন ছেড়ে না উঠলে সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হুমকি দিয়ে জয়নাল আবেদীনকে হত্যা করার নির্দেশ দেন রফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়ে তাঁকে আর বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগে শিক্ষার্থীদের হাতে ককটেল থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে এ ধরনের বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু কীভাবে এল, তাদের কেউ এমন কাজে প্ররোচিত করেছে কি না এবং ঘটনার পেছনে কারা জড়িত—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠা ও শিক্ষা গ্রহণের জায়গা। সেখানে শিক্ষার্থীদের সহিংসতার ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে হট্টগোলের খবর পেয়ে কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাঁরা প্রধান শিক্ষককে কার্যালয় থেকে বের করে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।”
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, “এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বলা যাবে। আইনের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে।”
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ভিডিওর সত্যতা যাচাই এবং অভিযোগে উঠে আসা বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
