মিজানুর রহমান: বাবার চোখের সামনেই অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটছে ২৬ বছর বয়সী মোসাম্মৎ শতাব্দী ইসলাম লাবনীর, যিনি লামিয়া নামে পরিচিত। পেটব্যথা ও বমিতে কষ্ট পাওয়া মেয়ের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে বসতভিটা, জমিজমা বিক্রি করে এখন নিঃস্ব তাঁর পরিবার। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতে নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের অভাবে মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছেন না বাবা হারুন আর রশিদ। তাই নিজের চিকিৎসার জন্য সবার কাছে সাহায্য চেয়েছেন লামিয়া। তাঁর আকুতি, ‘আমি বাঁচতে চাই, আমাকে বাঁচান।’
মাগুরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিজনান্দুয়ালী গ্রামের বাসিন্দা হারুন আর রশিদের একমাত্র মেয়ে লামিয়া। ছোটবেলা থেকে তাঁরও ছিল নানা স্বপ্ন। ২০১৭ সালে নান্দুয়ালী ডি ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ২০১৯ সালে আলুকদিয়া অমরেশ বসু ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক পাসের প্রায় দেড় বছর পর, ২০২০ সালের অক্টোবরে অসুস্থ হয়ে পড়েন লামিয়া। এরপর থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ চিকিৎসার সংগ্রাম।
প্রথমে তাঁকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে শেষ সম্বলটুকু নিয়েও চিকিৎসার চেষ্টা চালিয়ে যান বাবা।
২০২২ সালে বসতবাড়ি বিক্রি করে লামিয়াকে ঢাকার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রো লিভার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করিয়েও আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় তাঁকে শেরেবাংলা নগরের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় একপর্যায়ে তাঁকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে বাড়ি ও জমিজমা বিক্রি করে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পরিবারটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের পর নতুন করে চিকিৎসার চেষ্টা
বাড়িতে ফিরে আসার পর লামিয়ার অসুস্থতার কথা জানিয়ে স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেন তাঁর বাবা। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এক ব্যক্তি সেটি দেখে লামিয়াকে আবার ঢাকার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রো লিভার হাসপাতালে নিয়ে যান। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানেই লামিয়ার অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহজনিত রোগের কথা জানতে পারেন তাঁরা।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, লামিয়ার চিকিৎসায় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন এবং তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে নিতে হবে। তবে চিকিৎসকের এই পরামর্শ ও দেশে চিকিৎসার সুযোগ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হারুন আর রশিদ বলেন, ‘আমরা এখন সর্বহারা। এত টাকা জোগাড় করার মতো কোনো উপায় আমাদের নেই। আমার মেয়ের সারা দিন পেটে ব্যথা করে, বমি করে। মেয়ের এই কষ্ট আমি আর সহ্য করতে পারি না।’
মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়ে তিনি আরো বলেন, কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি তাঁর মেয়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে তিনি তাঁদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন।
অন্যদিকে, লামিয়াও সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়েছেন। অর্থের অভাবে যেন তাঁর চিকিৎসা থেমে না যায়, সে জন্য সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সহায়তা চেয়েছেন তিনি।
লামিয়ার পরিবারের এখন একটাই প্রত্যাশা- আর্থিক সহায়তা পেলে যেন তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায় এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়।
সানা/আপ্র/১৫/১০/২০২৬
