মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমতার তাৎপর্য তুলে ধরেছেন তাঁর স্ত্রী ব্যারিস্টার নুসরাত খান। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের একটি উদ্ধৃতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পাতায় প্রকাশ করেন তিনি। তবে স্বামীর পদত্যাগের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি নুসরাত।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই বার্তায় ক্ষমতাকে লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন সাধনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনার পর সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নুসরাত খান তাঁর পোস্টে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের উদ্ধৃতি ব্যবহার করে বোঝান, ক্ষমতার প্রকৃত অর্থ কেবল কোনো পদে থাকা কিংবা কর্তৃত্ব প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জন এবং সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনার সক্ষমতাই ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এর আগে মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ পরিস্থিতিতে সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে সরকার ও বিএনপি যেন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজের গুরুত্ব যেন আড়ালে চলে না যায়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তবে পদ ছাড়লেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ইশরাকের পদত্যাগের পরদিন তাঁর স্ত্রীর দেওয়া ক্ষমতাবিষয়ক এই বার্তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও পোস্টে নুসরাত খান স্বামীর পদত্যাগ, সাম্প্রতিক বিতর্ক কিংবা এ বিষয়ে নিজের অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। ফলে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে পদত্যাগের ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
নুসরাত খানের পোস্টে মূলত ক্ষমতার অর্থ, লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা এবং পরিবর্তন আনার শক্তির বিষয়গুলোই উঠে এসেছে। অন্যদিকে ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবেন।
