সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ, মুখোমুখি এনসিপি-বিএনপি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলাটি করেন উপজেলা প্রশাসনের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন। ইউএনও কার্যালয়ে তালা দিয়ে সরকারি কাজে বাধা ও জনভোগান্তি সৃষ্টির অভিযোগে এ মামলা করা হয়।
এদিকে, তালা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। তারা সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
আরও পড়ুন
জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশ করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে কোনো ধরনের নৈরাজ্য বরদাশত করা হবে না। তারা প্রশাসনের কাজে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানান এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন, বিএনপি দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চায়। তবে কোনো মহল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কাঁকনহাট পৌর বিএনপির সভাপতি জিয়াউল সরকার, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর, গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব, সহসভাপতি মোস্তফা ও নাসির উদ্দিন বাবু, রাজশাহী জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অরণ্য কুসুম, জেলা যুবদলের সদস্য ডালিম, গোদাগাড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ ও সদস্যসচিব বাবু, কাঁকনহাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মশি ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরসালান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বিদ্যুৎ ও সদস্যসচিব কাওসার এবং পৌর ছাত্রদলের মোবিনসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এর আগে সোমবার দুপুরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইউএনও ইসরাত জাহানের অপসারণ দাবিতে উপজেলা প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তারা ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে গোদাগাড়ী মডেল থানায় মামলা করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, এনসিপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গোদাগাড়ী উপজেলায় নতুন করে নিয়োগ পাওয়া ১১ জন সার ডিলারই বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং দলীয় সুপারিশে নিয়োগ পেয়েছেন। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারা প্রতিবাদ জানান। তবে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা পরিকল্পিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী মহানগর সদস্য সচিব আতিকুর রহমান বলেন, সার ডিলার নিয়োগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিএনপির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় আমাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মামলা করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আমরা ভীত নই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এনায়েত করিম/এসএন
আরও পড়ুন
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে দুদকের অভিযান, সংগ্রহ করেছে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম
দিনাজপুর মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের দুদকের অভিযান। ছবি: খবরের কাগজ
-->দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিশেষ এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বোর্ডের বিভিন্ন শাখায় অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই-বাছাই ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন দুদকের কর্মকর্তারা।
অভিযান শেষে বোর্ড চেয়ারম্যানের কক্ষেও বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়।
আরও পড়ুন
স্কুল পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের নাম ও রেজিস্ট্রেশন সংশোধন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি অনুমোদন, পাঠদানের অনুমতি ও নবায়ন এবং স্বীকৃতি প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এসব কার্যক্রমে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ গ্রহণ, সংগৃহীত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া এবং বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন সেবা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।
দিনাজপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক আতাউর রহমান সরকার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক খায়রুল বাশারের নেতৃত্বে এ এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন শাখার কার্যক্রম পরিদর্শন, নথিপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্কুল পরিবর্তন ও রেজিস্ট্রেশন সংশোধনে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ
দুদক সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শন শাখাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে স্থানান্তর বা স্কুল পরিবর্তনের আবেদনের ক্ষেত্রে অর্থ গ্রহণ এবং সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের স্কুল পরিবর্তনের অনুমোদন, নাম ও রেজিস্ট্রেশন সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা পেতে অভিভাবকদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি অনুমোদন, পাঠদানের অনুমতি প্রদান ও নবায়ন, স্বীকৃতি এবং এমপিও-সংক্রান্ত কার্যক্রমেও অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন সংশোধন নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের আওতায় রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সরকারি ফি যথাযথভাবে আদায় ও জমা দেওয়া হয়েছে কি না, কোনো অর্থ বিধিবহির্ভূতভাবে লেনদেন হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে প্রকৃত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন দুদকের কর্মকর্তারা।
দিনাজপুর দুদক উপ-পরিচালক আরো বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ, সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি একাধিক জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বোর্ডের স্কুল শাখার পরিদর্শক অধ্যাপক আমিনুল হক, সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম চৌধুরী, বিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন শাখার সেকশন অফিসার মেজবাহুল ইসলাম বকুল এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী শহিদুল ইসলাম শহীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রমে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তাঁদের কারও কারও সম্পদ ও আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে।
প্রাথমিক পর্যায়ে সংগ্রহ করা নথিপত্র ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তা নির্ধারণ করা হবে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করে দুদকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এরপর কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
এ অভিযানে দুদকের সহকারী পরিচালক ইমরান হুসাইন, উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নেন।
সুলতান মাহমুদ/এসএন
আরও পড়ুন
খেজুরে তেল মিশিয়ে বিক্রি, ব্যবসায়ীকে জরিমানা
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->খেজুরে তেল মিশিয়ে প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করার দায়ে চট্টগ্রামে এক পাইকারি ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নগরের স্টেশন রোড এলাকার ফলের পাইকারি বাজার ফলমন্ডিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ।
তিনি বলেন, ‘মোড়কজাতকরণ বিধি অনুসরণ না করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেজুরে তেল মিশিয়ে প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করায় তুহিন এন্টারপ্রাইজকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং কেনা-বেচার ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার দায়ে মেসার্স আল্লাহওয়ালা এন্টারপ্রাইজকে ২ হাজার টাকা, মেসার্স অ্যান্ড ব্রাদার্সকে ২ হাজার টাকা এবং মেসার্স রাউজান এন্টারপ্রাইজকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।’
অন্যদিকে, নগরের দেওয়ানহাট এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ। সেখানে খাদ্যদ্রব্য রান্নায় রং মিশ্রিত কাশ্মীরি মরিচ ব্যবহার এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রক্রিয়াজাত করার দায়ে তায়েফ রেস্তোরাঁকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সালমান/
আরও পড়ুন
নিখোঁজের ৫০ বছর পর পাকিস্তান থেকে ফিরলেন পরী বেগম
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
ভাইদের সঙ্গে পরী বেগম। ছবি: খবরের কাগজ
-->ফরিদপুরের নগরকান্দার পরী বেগম। মাত্র ১০ বছর বয়সে পরিবারের কাছ থেকে হারিয়ে যান। এরপর মানবপাচারকারী চক্রের কবলে পড়ে ভারত হয়ে চলে যান পাকিস্তানে। সেখানেই কেটে যায় জীবনের দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর। পাকিস্তানে গড়ে ওঠে সংসার, জন্ম নেয় সন্তান। কিন্তু শৈশবের স্মৃতি মন থেকে মুছে যায়নি। জন্মভূমি বাংলাদেশ আপনজনদের মুখগুলো ভোলেননি। ভাগ্যের চাকায় ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে ৬০ বছর বয়সে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ফিরে ভাইদের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন পরী বেগম।
হারিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ পাঁচ দশক পাকিস্তানে বসবাস। যার কারণে বাংলা ভাষা অনেকটা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। দেশে ফিরে নিজের ভাইদের সামনে বসেও বাংলায় মনের কথা প্রকাশ করতে পারছেন না। কথা বলছেন উর্দুতে, তবে ভাষার এই ব্যবধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি ভাই-বোনের পুনর্মিলনে। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর একে অপরকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন পরিবারের সবাই।
গত প্রায় ১৫ দিন আগে তিনি এক মাসের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। দীর্ঘ ৫০ বছর পর পরী বেগমের ফিরে আসার খবরে নগরকান্দায় তার পৈতৃক বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারে চলছে নানা আয়োজন। আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি আশপাশের প্রতিবেশীরাও তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন। পরী বেগমকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে মসজিদে দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া বোনকে কাছে পাওয়ায় পুরো পরিবারে যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরী বেগম ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মমিন মাতুব্বরের মেয়ে। স্বজনদের তথ্য মতে, প্রায় ৫০ বছর আগে মাত্র ১০ বছর বয়সে নিখোঁজ হন পরী বেগম। পরে মানব পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে প্রথমে ভারত এবং সেখান থেকে তাকে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। পাকিস্তানে কয়েক দফা হাতবদলের পর নিঃসন্তান এক দম্পতির আশ্রয়ে যান পরী বেগম। ওই দম্পতি তাকে নিজেদের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের এক নাগরিকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নতুন দেশ, নতুন পরিবার আর সংসারের ব্যস্ততায় জীবনের পাঁচ দশক পার হলেও নিজের জন্মভূমি ও শৈশবে ফেলে আসা স্বজনদের স্মৃতি ভুলতে পারেননি পরী বেগম। বিশেষ করে বাবা-মা ও ভাইদের কথা তিনি মনে রেখেছিলেন। তবে এত বছর পর তাদের সঙ্গে আবার দেখা হবে, এমন আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।
পরী বেগমের হারিয়ে যাওয়া পরিবারের সন্ধান পাওয়ার ঘটনাটিও বেশ চমকপ্রদ। আর এই যোগাযোগের সূত্র তৈরি করেন রাজশাহী থেকে পাকিস্তানে পড়তে যাওয়া দুই বাংলাদেশি যুবক।
পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ওই দুই যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় পরী বেগমের নাতির। একপর্যায়ে নিজের দাদির বাংলাদেশে হারিয়ে যাওয়া পরিবারের গল্প তাদের জানান। পরে ওই দুই যুবক পরী বেগমের সঙ্গে দেখা করেন। তার কাছ থেকে বাংলাদেশের বাড়ির ঠিকানা ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানার চেষ্টা করেন। এ সময় পরী বেগম জানান, তার বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দায়। বাবার নাম মমিন মাতুব্বর। বড় ভাই নওশের আলী মাতুব্বর, মেজ ভাই সাইফুল মাতুব্বর এবং ছোট ভাই সোলেমান মাতুব্বর। এই নাম ও ঠিকানার সূত্র ধরে বাংলাদেশে ফিরে স্বজনদের খোঁজ শুরু করেন দুই যুবক। একপর্যায়ে নগরকান্দায় তারা পরী বেগমের পরিবারের সন্ধান পান। এরপর দীর্ঘ ৫০ বছর পর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয় হারিয়ে যাওয়া ভাই-বোনের। একে অপরের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় সরাসরি দেখা করার অপেক্ষা। অবশেষে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন পরী বেগম। ছোটোবেলায় হারিয়ে যাওয়া সেই বোনকে এত বছর পর ফিরে পাবেন, তা যেন তারা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না।
পুনর্মিলনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো, পরী বেগম এখন আর বাংলায় স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না। দীর্ঘদিন পাকিস্তানে বসবাস করায় তার দৈনন্দিন কথাবার্তার ভাষা হয়ে উঠেছে উর্দু। দেশে ফিরে গণমাধ্যমের কাছেও উর্দু ভাষাতেই নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভাগ্যদোষে আর ঘটনাক্রমে দীর্ঘ কয়েক যুগ পাকিস্তানে বসবাস করলেও জন্মভূমির কথা, শৈশবের কথা ভোলেননি। বাবা-মা, ভাইদের কথা প্রায়ই মনে করতেন। এই জন্মে হয়ত আর পরিবারের সদস্য, ভাইদের সাথে দেখা হবে কিনা তা ভাবতেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস শেখ জানান, পরীকে ছোট বেলায় দেখেছি। শৈশবের কথা এখনও মনে আছে। নিখোঁজের ৫০ বছর পর যে তার জন্মভিটাতে ফিরে আসবে কেউ ভাবতে পারেনি, আশাও করেনি। পরী বেগম ফিরে আসার খবরে তার আত্মীয়-স্বজন,পাড়াপড়শি সবাই খুশি।
পরি বেগমের বড় ভাই নওশের আলী মাতুব্বর বলেন, তখন ওর বয়স দশ বছর। সরল বিশ্বাসে বাজারে যাওয়ার পরে সে নিখোঁজ হয়। আমারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে আর পাইনি। দীর্ঘ এত বছর পর আমাদের বোন ফিরে এসেছে। এ আনন্দ বলে বোঝানোর মতো নয়। এক মাসের ভিসা নিয়ে এসেছে। আর মাত্র পনেরো দিনের মতো আছে। এরপর আবার সে পাকিস্তানে ফিরে যাবে।
পরি বেগমের মেজ ভাই সাইফুল মাতুব্বর বলেন, আমরা সবাই আনন্দিত। পাকিস্তানে তার স্বামী-সন্তানসহ পরিবার আছে। তারাও খুব খুশি। কয়েকদিন পরে সে ফিরে যাবে। এরপর তার স্বামী সন্তানদের নিয়ে আবার বেড়াতে আসবে।
এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। সময় করে সরাসরি ওই বাড়িতে যাবো। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বিচ্ছেদের পর পরী বেগম নামে এক নারীর তার জন্মভিটায়,পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে আসা খুশির খবর।
নয়ন/নাঈম
আরও পড়ুন
মতলব দক্ষিণে মিলল অজ্ঞাত নারীর মরদেহ
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বিল থেকে বস্তাবন্দি অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মতলব পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরমুকুন্দী গ্রামের জোড় ব্রিজ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সকালে গ্রামের এক ব্যক্তি বিলে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে কম্বলে মোড়ানো বস্তাসদৃশ একটি বস্তু দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন
স্থানীয়দের ধারণা, কয়েক দিন আগে ওই নারীকে হত্যা করে মরদেহটি বিলে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। মরদেহের মুখ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তার বয়স ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এখন পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত চলছে।
ফয়েজ আহমদ/তামান্না রুপা/
