‘সন্ধ্যার পরে হঠাৎ প্রতিবেশী একজন বলতেছে, আমার স্বামীকে গুলি করছে। আমিও শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে দেখি, তার রক্তাক্ত দেহটা মাটিতে পড়ে আছে। আমার স্বামীর ওপর আগেও হামলা করেছে। আমি হত্যাকারীদের কঠিন বিচার চাই।’
এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের স্ত্রী অনিন্দিতা সংমা।
বিজ্ঞাপন
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া আটটার দিকে দুর্গাপুর পৌরসভার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের তেলনজিয়া এলাকায় বাড়ির পাশে দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
অনিন্দিতা সংমা বলেন, বিকেল চারটা থেকে তিনি আমার ফুফুর ঘরে বসে নিউজ লিখছিলেন। আমাকে তিনি সন্ধ্যার দিকে বললেন, বাচ্চারা যাতে বিরক্ত না করে। ওই সময় তিনি দরজায় দাঁড়িয়ে বাচ্চাদের দেখছিলেন। আমি ঘরে কাজ করছিলাম।
বিজ্ঞাপন
নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির বেসরকারি আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন) চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজ চালাতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন। তার গ্রামের বাড়ি জেলার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।
এর আগে, গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা লুৎফুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা তার এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে লুৎফুজ্জামান তেলনজিয়া গ্রামে তার শ্বশুরবাড়ির পাশেই একটি দোকানে চা খেয়ে বের হচ্ছিলেন। এ সময় দুই যুবক এসে তার ওপর পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে ওই যুবকেরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা লুৎফুজ্জামানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
তেলনজিয়া এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী চা-দোকানি রবিন রাংসা বলেন, লুৎফুজ্জামান চা খেয়ে দোকান থেকে বের হয়ে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। দোকানে ভুল করে মোবাইল রেখে যাওয়ায় তিনি আবার মোবাইলটা নিতে আসেন। তিনি তখন দোকানে চায়ের কাপ পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় দুই যুবক দোকানে এসে প্রথমে সিগারেট চায়। এরপর হঠাৎ লুৎফুজ্জামানকে কয়েকটি গুলি করে। আশপাশের মানুষ ছুটে এলে ওই দুজন অন্ধকারে পালিয়ে যায়।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, ওই সাংবাদিকের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গুলিতে সাংবাদিক হত্যার খবর পেয়ে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত অপরাধীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।
কামাল হোসেন/কেএইচকে
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
