ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জনসেবার সংকট ঘিরে চলমান বিক্ষোভে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিক্ষোভ ও সমাবেশ ঘিরে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেনদারমেরি সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও সংবেদনশীল স্থান সুরক্ষায় সেনাবাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হবে।
শুক্রবার প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শনিবারের কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় সদস্যদের পাশাপাশি দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত মোবাইল ইউনিট ও বিশেষায়িত নিরাপত্তা দল কাজ করবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার ও ড্রোনসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে কয়েকটি শহরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার এবার আগেভাগেই নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি ভবন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার আহ্বান ছড়ানোর অভিযোগও তুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সহিংসতা ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা
নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সেনাবাহিনীর সহায়তা থাকলেও ৭০ হাজারের ঘোষিত সংখ্যা পুলিশ ও জেনদারমেরি সদস্যদের। সেনাবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব মূলত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রধান দায়িত্ব থাকবে পুলিশ ও জেনদারমেরির হাতে।
এ ছাড়া বিশেষায়িত ইউনিট রেইড, জিআইএন এবং বিআরআইকে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানো হবে। এসব ইউনিট সরকারি ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় সহায়তা দিতে পারে, যাতে নিয়মিত পুলিশ ও জেনদারমেরি সদস্যরা বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।
গত সপ্তাহের সহিংসতায় গ্রেপ্তার ও বিচারিক পদক্ষেপ
গত সপ্তাহের সহিংসতার ঘটনায় ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৪৪ জনকে বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং ২৩২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগে ২৬৩টি তদন্তপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব সংখ্যা গত সপ্তাহের ঘটনাসংশ্লিষ্ট; শনিবারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নয়।
নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় কয়েকটি শহরে বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্যারিসে ল্যুভরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শনিবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্সেইয়ে প্রথমে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হলেও পরে একটি শ্রমিক ইউনিয়নের মিছিলের জন্য নির্দিষ্ট পথে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবারের কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক প্রশাসন
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসনসংকট ও জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে শিক্ষার্থী, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের কর্মসূচি রয়েছে। তবে শনিবারের বিক্ষোভে কত মানুষ অংশ নেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সরকারের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে মতবিরোধও রয়েছে। একদিকে কর্তৃপক্ষ সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকানোর ওপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে সমালোচকেরা বিক্ষোভের অধিকার রক্ষা এবং অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন।
শনিবারের কর্মসূচি ঘিরে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে প্রশাসন। বিক্ষোভে অংশ নিতে যাওয়া ব্যক্তিদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিষিদ্ধ এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
